শিক্ষকদের আন্দোলনে রুয়েটে ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ

শিক্ষকদের আন্দোলনে রুয়েটে ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ

প্রকাশিত: ০৬-০২-২০১৭, সময়: ১৪:৫০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষকদের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অসদাচারণের অভিযোগ তুলে তাদের শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ঘোষণা দিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে শিক্ষক সমিতি। রোববার দুপুর ২টায় শিক্ষক সমিতির এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষকরা। তাদের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রুয়েটে কোন বিভাগেই ক্লাস-পরীক্ষা নেননি শিক্ষকরা।
এ ব্যাপারে রুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. নিরেন্দ্র নাথ মুস্তাফি বলেন, ‘রোববার ২টার দিকে শিক্ষক সমিতির জরুরি এক সাধারণ সভায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যে অছাত্রসুলভ আচরণ, শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা এবং শিক্ষকদের যে অপমান করা হয়েছে, মূলত আমরা এজন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ‘আমরা কোনো শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করিনি। একটা দাবিকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সফল করে তুলতে হলে অনেক কিছুই করতে হয়। সেটা কোন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কোন শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে করেনি। কিন্তু শিক্ষকরা ব্যাপারটা হয়তো ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। আমরা আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও খোঁজ নিয়েছি, সেখানেও ওই অর্থে কোন অপ্রীতিকর মন্তব্য নেই। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ক্রেডিট পদ্ধতি নিয়ে নিজেরাই ভয়ংকর ভোগান্তির মধ্যে ছিলাম, তাই এই পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছি বলে জানান তারা।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্যারদের অবরুদ্ধ করে রাখার সময় এক শিক্ষককের মা অসুস্থ ছিলো, তাকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছে। আরেক শিক্ষক রাতে খাওয়ার ওষুধ আনেননি, তাকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছে। আমরা স্যারদের সাথে অসদাচরণ করিনি। আসলে স্যাররা আমাদের ওপর রাগ করেছে। আমরা ভাবছি, স্যারদের কাছে সরি বলব। আশা করি, এভাবেই ব্যাপারটা মিটে যাবে।’
রুয়েট সূত্রে জানা যায়, ৩৩ ক্রেডিট বাতিলের দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলন করে আসছিল রুয়েটের ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার উপাচার্যসহ প্রায় ১৫ শিক্ষককে আবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে রবিবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের মুখে ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় রুয়েট প্রশাসন। এরপরই দুপুর ২টার দিকে রুয়েটের শিক্ষক সমিতি জরুরি এক সাধারণ সভায় আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণা করে।

উপরে