পিছু হটল রুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল

পিছু হটল রুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল

প্রকাশিত: ০৫-০২-২০১৭, সময়: ১৩:২৮ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রবিবার দুপুর ২টায় রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ এ পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক কাউন্সিলের ৮৭তম সভায় ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল, সেটাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
এদিকে ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিল ঘোষণার পরপরই উল্লাসিত আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেন এবং তাদের সকল অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। আনন্দ মিছিলে আন্দোলনকারী দুই সিরিজের প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘ছাত্রদের রক্ত কখনও বৃথা যায় না, আমাদের আন্দোলনের এই সাফল্য তা প্রমাণ করে। আমাদের আন্দোলনের মাধ্যমে যে শুধু দাবি আদায় হয়েছে তা নয়, আন্দোলনকারী দুই সিরিজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা শক্তিশালী বন্ধন তৈরী হয়েছে। দাবি আদায়ের পাশাপাশি এটা একটা বাড়তি পাওনা।’
‘৩৩ ক্রেডিট’ বাতিলের দাবিতে রুয়েট উপাচার্যসহ ১৫ শিক্ষককে শনিবার দুপুর থেকে অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করে আসছিল ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে শরীরের রক্ত ঢেলে দাবি আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান লিখেন। সন্ধ্যা পৌণে ৬টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ দফতর থেকে বের হতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দরজার সামনে শুয়ে পড়েন। এরপর থেকে রবিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত নিজ দফতরে অবরুদ্ধ ছিলেন রুয়েট উপাচার্য।
এ দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল রুয়েটের ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের কারণে গত মঙ্গলবার এই দুই সিরিজের শিক্ষার্থীদের সব একাডেমিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করে প্রশাসন। এর পরের দিনই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অবস্থান করা হল (টিনসেড) বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি করে বলেন, ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ৩৩ ক্রেডিট না তুলতে পারলে বর্ষ পরিবর্তন হয় না। ২০১২ সালের পর থেকে এই পদ্ধতি চালু হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকেই নিচের ব্যাচের সঙ্গে থেকে যেতে হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের আর কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ব্যবস্থা চালু নেই। তাই আমরা আগের ক্যারিঅন পদ্ধতিতে যেতে চাই। যেখানে ব্যাক ফ্লপ বা দুই-এক বিষয়ে ফেল থাকলেও পরবর্তীতে বর্ষে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। সেই সঙ্গে আগের ফেল করা বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করার সুযোগ থাকে।

উপরে