ইরাকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নিহত আরো ১৩

ইরাকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নিহত আরো ১৩

প্রকাশিত: ০৮-১১-২০১৯, সময়: ১১:০৯ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ইরাকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আর বিক্ষোভকারীরা প্রায় প্রতিদিনই নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার শিকার হচ্ছেন। বৃহস্পতিবারও গুলি করে দুই শহরে ১৩ বিক্ষোভকারীকে খুন করেছে ইরাকি বাহিনী। এ নিয়ে গত পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন ২৬০ জনের বেশি মানুষ।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাজধানী বাগদাদে জড়ো হয়েছিলো সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে নিহত হয় কমপক্ষে ছয়জন।

এছাড়া ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বশরায় বিক্ষোভ সমাবেশে হামলা চালালে নিহত হয়েছে আরো সাতজন। এছাড়া বাগদাদের সৌহাদা ব্রিজের কাছে দু পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছে আরো ৩৫ জন।

আল জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা তাইগ্রিস নদীর পশ্চিম তীরের দুটি সেতু পাড় হয়ে বাগদাদের সংরক্ষিত এলাকা গ্রিন জোনে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের প্রতিরোধ করতে গুলি ছুড়লে ছয়জন বিক্ষোভকারী নিহত হন।

প্রসঙ্গত, বাগদাদের সংরক্ষিত এলাকা গ্রিন জোনে রয়েছে ইরাক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় ও বিদেশি দূতাবাসগুলো। গ্রিন জোনে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

ইরাকের তেল সমৃদ্ধ শহর বশরাতেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবস্থান ধর্মঘট করেছে বিক্ষোভকারীরা। সেখানেও বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে সাত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। শুধু বাগদাদ বা বশরা নয়, দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বন্দর নগরী উম কাসরের প্রবেশ মুখে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে সরকার বিরোধীরা। বিক্ষোভকারীদের প্রতিবন্ধকতার মুখে এসময় শহরে কোনো যানবাহন ঢুকতে পারেনি। তবে কয়েক ঘণ্টা পরেই বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয়া হয়। ফলে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ইরাকে একটানা সরকারি বিরোধী বিক্ষোভের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের ঘটনা। বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, দুর্নীতি ও সরকারের নানা অনিয়মের প্রতিবাদে গত পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে এই বিক্ষোভ। বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২৬০ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ।

এই বিক্ষোভে অংশ নেয়াদের অধিকাংশই বেকার যুবক। তাদের অভিযোগ, ২০০৩ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে ইরাক শাসন করে আসছে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত একটি শ্রেণি। ওই শ্রেণি ইরাকি জনগণের জন্য কোনো কাজ করেনি, কেবল নিজেদের আখের গুছিয়েছে। তাই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ওই শ্রেণিটির সমূলে উৎখাতের দাবিতে সে দেশে চলছে এই দীর্ঘ বিক্ষোভ।

Leave a comment

উপরে