আসাম-কাশ্মীর কাণ্ডে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের উদ্বেগ

আসাম-কাশ্মীর কাণ্ডে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের উদ্বেগ

প্রকাশিত: ১১-০৯-২০১৯, সময়: ১১:০১ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আরোপিত কারফিউ ও জারিকৃত বিধিনিষেধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান মিশেল বেচলেট।

জেনেভায় হিউম্যানস রাইটস কাউন্সিলে এক বিবৃতিতে তিনি কাশ্মীরের মানুষকে তাদের সাধারণ অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন এবং শিগগিরই কারফিউ তুলে নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এনডিটিভি।

সোমবার ইউএনএইচসিআর’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে মিশেল বেচলেট নয়া দিল্লিকে কাশ্মীরে মৌলিক সেবা নিশ্চিত এবং ৫ আগস্ট থেকে আটককৃতদের অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরীদের মানবাধিকার নিয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তিত। সেখানে যেভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে, বিধি-নিষেধ আরোপ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সম্মেলন করতে দেয়া হচ্ছে না এবং স্থানীয় নেতাদের আটক করে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান অচলাবস্থা এবং কারফিউ নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমি ভারত সরকারকে কাশ্মীরের মানবাধিকারকে সম্মান ও সুরক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি।

কাশ্মীরীদের মৌলিক সেবায় প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে এবং যাদের আটক করা হয়েছে তাদের অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে। কাশ্মীরের জনগণকে তাদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন নীতি-নির্ধারণী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করতে হবে।’ মিশেল বেচলেট জানান, তার অফিস ক্রমাগত লাইন অব কন্ট্রোলের দুইপাশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছে।

এই সময় আসামের নাগরিকত্ব পঞ্জি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি ১৯ লাখ মানুষকে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মুখে ঠেলে দেবে। তিনি আরও বলেন, আমি ভারত সরকারকে এই বিপুল পরিমাণ মানুষের আপিলের প্রক্রিয়া, বিতাড়ন, আটক রোধ ও তাদের রাষ্ট্রহীন না করা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করছি।

গত ৫ আগস্ট ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর থেকে সেখানে অচলাবস্থা চলছে। কারফিউ আরোপ, ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা বিচ্ছিন্ন ও ব্যাপক সেনা মোতায়েন করে কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা কাশ্মীরে বিধি-নিষেধ তুলে নেয়া ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

Leave a comment

উপরে