যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ জেরুসালেম

যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ জেরুসালেম

প্রকাশিত: ১৬-০১-২০১৭, সময়: ১২:১৩ |
Share This

পদ্মা টাইমস ডেস্ক : বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলোর অন্যতম জেরুসালেম তিনটি ধর্মের কাছে পবিত্র নগরী। ইসলাম ও ইহুদি ধর্মের পবিত্র স্থানগুলো – যেমন আল-আকসা মসজিদ, কুব্বাত আস-সাখরা, এবং ইহুদিদের প্রাচীন মন্দিরের দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ সব এই জায়গাটিতেই। এর কাছেই আরো আছে খ্রিষ্টানদের পবিত্র চার্চ অব দ্য হোলি সেপালক্রে।
জেরুসালেমের দীর্ঘ ইতিহাসে শহরটি কমপক্ষে দুইবার ধ্বংস হয়েছে, ২৩বার অবরোধ হয়েছে, ৫২বার আক্রমণ হয়েছে এবং ৪৪বার দখল এবং পুনর্দখল হয়েছে। ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে জর্ডন নদীর পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়। ফিলিস্তিনিরা চায় তাদের ভবিষ্যত স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুসালেম, কিন্তু ইসরায়েলের দাবি, পূর্ব ও পশ্চিম জেরুসালেম মিলিয়ে পুরো শহরটিই তাদের রাজধানী।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের অনেক সদস্য রাষ্ট্রই জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকার করে না। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ এবং বসতি নির্মাণও আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত নয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেমের অধিগ্রহণকে বহু দেশই মেনে নিতে পারেনি। সে কারণে সাবেক রাজধানী তেল আবিবেই তাদের দূতাবাস কাজ করছে।
কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নিতে পারেন।
প্যারিসে শুরু হওয়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনায় ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবার পর তিনি যদি ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাসটি তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুসালেমে নিয়ে যান, তাহলে তা হবে এক উস্কানিমূলক কাজ এবং যার পরিণাম হবে গুরুতর।’
মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুসালেমে স্থানান্তরিত হলে এটি বিবাদমান পক্ষগুলোর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পূর্ব জেরুসালেমের মর্যাদার প্রশ্ন, যা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এবং জটিল ব্যাপার।
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, তুরস্কসহ কিছু দেশের কূটনৈতিক মিশন জেরুসালেমে রয়েছে। তবে সেটাকে ‘ইসরায়েলের দূতাবাস’ বলা হয় না। বলা হয় ‘জেরুসালেম বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য কূটনৈতিক মিশন’। এখন যদি মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুসালেমে নিয়ে যাওয়া হয়, তার প্রতীকী অর্থ হবে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের ‘আইনসঙ্গত রজধানী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।
ফ্রান্সে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এই সম্মেলনে যোগ দেওয়া অনেকেই একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। জাতিসংঘও জেরুসালেমকে ইসরায়েলের অধিকৃত এলাকা বলে মনে করে। সেখানে ইহুদি বসতি নির্মাণ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে সম্প্রতি একটি প্রস্তাবও পাস হয়েছে জতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে।

উপরে