সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রামেক হাসপাতালের টেন্ডার

সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রামেক হাসপাতালের টেন্ডার

প্রকাশিত: 18-11-2019, সময়: 16:12 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) রোগীদের জন্য পথ্য সরবরাহের ঠিকাদার নির্বাচিত করা হয়েছে ইচ্ছামতো। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। সর্বশেষ হাসপাতালের পরিচালক ও দরপত্র কমিটির সদস্যদের নামে মামলা করেন নাটোরের ঠিকাদার এমদাদুল হক। রোববার রাজশাহী মহানগর যুগ্ম জজ আদালতের বিচারক জয়ন্তী রানী দাস এমদাদুল হকের আবেদনটি আমলে নিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।

ঠিকাদার এমদাদুল হক অভিযোগ করেন, আটটি গ্রুপের মধ্যে চারটি গ্রুপের দরপত্র খোলা হয় প্রকাশ্যে। অন্য চারটি গ্রুপের দরপত্র খোলা হয় গোপনে। গোপনে মাছ, দুধ, স্টেশনারি ও বিবিধ কাজের দরপত্র খোলা হয়। যারা কাজ পেয়েছেন, তাদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কে কতো দর দিয়েছিলেন, তা জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, নগর আওয়ামী লীগের একজন নেতার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট রামেক হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। ওই সিন্ডিকেটের বাইরে কাউকে পথ্য সরবরাহের কাজ দেয়া হয়নি। অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ সিন্ডিকেট বলে দাবি করেন এই ঠিকাদার।

দরপত্র ডকুমেন্টে দেখা যায়, রেশন গ্রুপে শাহাবুদ্দিন হলুদের দর দেন প্রতি কেজি ৫৮ টাকা। কিন্তু কাজটি ১৭০ টাকা দর দিলেও তাকে দেওয়া হয়নি। ২২৫ টাকা দর দেওয়া আজাদ আলীকে কাজটি দেওয়া হয়েছে। জিরা প্রতি কেজি ১২০ টাকা দর দেন শাহাবুদ্দিন। কিন্তু সরবরাহের কাগজে তাকে দর দেওয়া হয়েছে ৩৫০ টাকা প্রতি কেজি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আটটি গ্রুপে মোট ৩৮ আইটেমের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঠিকাদাররা এতে অংশ নিয়ে সরবরাহ করতে দরপত্র জমা দেন। ৫ সেপ্টেম্বর দরপত্র বাক্স খোলা হয়। ২৬ অক্টোবর ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কার্যাদেশে হাতে পাওয়ার পর ধরা পরে নানা অনিয়ম। সর্বনিম্ন ঠিকাদারকে কাজ না দিয়ে উচ্চ দরে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই হাসপাতাল ও কলেজের আসবাবপত্র এবং চিকিৎসার যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ‘বালিশ-পর্দা কান্ডের’ মত ঘটনার রয়েছে দাবি করেন হাসপাতালের ওই সূত্রটি।

এমদাদুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াহিয়া জানান, অনিয়ম করে সরবরাহকারী নিয়োগ করায় একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ লোকসান হবে। অন্যদিকে তার মক্কেল ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ কারণে ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের দারস্থ হয়েছেন।

দরপত্রের কার্যাদেশ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সবজি গ্রুপে আলু ও পেঁপের মূল্য একই হওয়ায় লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু পাউরুটির দরে শফিকুল ও আজাদ আলী একই দর দেন। নিয়মানুযায়ী সেখানেও লটারি হওয়ার কথা। কিন্তু দরপত্র কমিটি লটারি না করে শফিকুলকে সরবরাহের আদেশ দেন। আজাদ আলী তার কাগজপত্রে সবজি, মাংস, রেশন গ্রুপে কাজ পান। কিন্তু পাউরুটি সরবরাহের গ্রুপে তাকে বাদ দেয়া হয়। মুরগির মাংস সরবরাহে মোঃ সুমন সর্বনিম্ন প্রতি কেজি ২১৩ টাকা দর দেন। কিন্তু সরবরাহের কাজটি শফিকুল এন্টারপ্রাইজকে দেয়া হয় ২১৪ টাকা দরে।

এনিয়ে আদালতে মামলা করেছেন ঠিকাদার মো: সুমন। তার অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইচ্ছামতো ঠিকাদার নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনে দর দামের নিয়ম মানা হয়নি। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হবে বলে দাবি করেন এই ঠিকাদার।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ সাইফুল ফেরদৌস জানান, যারা কাজ পান না, তারা অভিযোগ করেন। এটাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে পথ্য সরবরাহের দরপত্র নিয়ম মেনে খোলা হয়েছে। সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যোগ্যদের। তারা আদালতেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।

Leave a comment

উপরে