অন্ধ নারীর স্পর্শে সনাক্ত হচ্ছে স্তন ক্যান্সার

অন্ধ নারীর স্পর্শে সনাক্ত হচ্ছে স্তন ক্যান্সার

প্রকাশিত: 11-10-2019, সময়: 17:20 |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বর্তমানে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কোনো নারীর স্তন ক্যান্সার হয়েছে কিনা কলম্বিয়াতে সেটা অন্ধ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরীক্ষা করে দেখছেন। এই প্রকল্পটির নাম দেয়া হয়েছে যে হাত জীবন বাঁচাতে পারে। অন্ধ ব্যক্তির হাতের স্পর্শ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ার কারণে এই ক্যান্সার শনাক্ত করার কাজে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

সারা বিশ্বে নারীরা এই ক্যান্সারেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এতে অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে। স্তন ক্যান্সার থেকে জীবন রক্ষার একটি উপায় হলো যতো শীঘ্র সম্ভব এটিকে শনাক্ত করা। আর এই কাজেই লাগানো হয়েছে কলম্বিয়ার অন্ধ ব্যক্তিদের।

তাদেরই একজন লিইডি গার্সিয়া বলছেন, আমার কাছে হাতই হলো আমার চোখ। এই হাত দু’টো দিয়েই আমি সারা বিশ্বকে অনুভব করতে পারি। বর্তমানে আমি যা কিছু করছি, এই হাত দুটো ছাড়া সেসব করা অসম্ভব ছিল। লিইডি গার্সিয়া একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ শনাক্ত করার কাজে তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলছেন, আমার আঙ্গুল, আঙ্গুলের মাথা, এসব দিয়ে স্পর্শের যে অনুভূতি, সেটা দিয়ে আমি অন্য নারীদের সাহায্য করতে পারছি। স্তনের টিস্যুতে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক কিছু থাকলে সেটা আমি আমার স্পর্শ দিয়ে চিহ্নিত করতে পারি। বুঝতে পারি স্তনে অস্বাভাবিক কোনো লাম্প বা মাংসপিণ্ড আছে কিনা।

অন্ধদের দিয়ে স্তন পরীক্ষার এই উপায়টি উদ্ভাবন করেছেন জার্মান গাইনোকোলজিস্ট ড. ফ্রাঙ্ক হোফম্যান। তাদের স্পর্শ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ার কারণেই স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করার ব্যাপারে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই কাজে লাগানো হয়েছে। ড. হোফম্যান বলছেন, স্তন পরীক্ষা করতে গিয়ে আমরা নতুন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছি।

এটি উদ্ভাবন করা হয়েছে জার্মানিতে। এই পদ্ধতিতে স্তনের পুরো এলাকায় আঠাযুক্ত টেপ লাগিয়ে প্রত্যেক ইঞ্চি পরীক্ষা করে দেখা হয়। এর মাধ্যমে স্তনের সামান্য কোনো অংশও যাতে পরীক্ষা থেকে বাদ পড়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করা হয়।যদি অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায় তাহলে তাকে ডাক্তারের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিকিৎসকই ঠিক করেন এর পর তাকে কী ধরনের চিকিৎসা দেয়া হবে।

সারা বিশ্বেই নারীরা যে ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন সেটি হচ্ছে স্তন ক্যান্সার। এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। এ কারণে এটিকে যতো আগে সম্ভব শনাক্ত করা খুবই জরুরি। একটি হাসপাতালের ডাক্তার লুইস আলবার্তো ওলাভ বলছেন, একজন প্রশিক্ষিত ডাক্তার স্তনের লাম্প এক সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় হলে সেটা ধরতে পারেন। কিন্তু আমরা দেখেছি যে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এর চেয়ে ছোট আকারের মাংসের দলাও শনাক্ত করতে পারেন। এরকম ক্ষুদ্রাকৃতির লাম্প ধরতে পারাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এতেই বেশি সময় লেগে যায়।

এরকম আরেকজন পরীক্ষক বলছেন, এই কাজে নারীদের অংশগ্রহণও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটাও জরুরি। কারণ তারা ওই নারীর শরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও খোলামেলাভাবে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এতে তারা অনেক বেশি স্বস্তি বোধ করে এবং কোনো ধরনের দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছাড়াই পরীক্ষকের কাছে সবকিছু তুলে ধরতে পারে।
এই নারী পরীক্ষক বলছেন, তাদের হাতের সংবেদনশীলতা জীবনরক্ষাকারী এরকম একটি কাজে ব্যবহার করতে পারায় তিনি খুব খুশি। তিনি মনে করেন, তারা খুবই মূল্যবান একটা কাজ করছেন। পাশাপাশি যেসব নারী এই অন্ধ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কাছে আসছেন স্তন পরীক্ষা করাতেও তারাও বলছেন যে এই উদ্যোগে তারা এখন আগের চাইতে ভালো ফলই পাচ্ছেন।

উপরে