রামেকে ডেঙ্গু কর্নারে তালা, বারান্দায় রোগিরা

রামেকে ডেঙ্গু কর্নারে তালা, বারান্দায় রোগিরা

প্রকাশিত: ০৫-০৮-২০১৯, সময়: ২৩:৫৭ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডেঙ্গু নিয়ে যখন সারাদেশে উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ তখন হঠাৎ আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্ণারে ঝুলছে তালা। ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগীকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দায়। এনিয়ে অভিযোগ করছেন রোগী ও স্বজনরা। তবে প্রশাসনের যুক্তি আক্রান্ত রোগীদের জন্য ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে খোলা হয়েছে পৃথক সেবা কেন্দ্রে। সে কারনে ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে রামেক হাসপাতালের তিন তলায় অবস্থিত ডেঙ্গু কর্ণার হিসেবে পরিচিত ১৭ নম্বর কেবিনে গিয়ে দেখা যায় সেটি তালা বন্ধ। এর পাশের কেবিনটিতে একজন সিজারিয়ান রোগীকে রাখা হয়েছে। উপস্থিত নার্সদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কর্তৃপক্ষের সিন্ধান্তে ডেঙ্গু রোগীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখানে যারা ছিলেন তাদের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে সেবা দেয়া হচ্ছে।

২৫ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডটিতে রোগীদের সেবা দিচ্ছে উপস্থিত নার্স ও ইন্টার্ণ চিকিৎসক। সেখানে কয়েকটি বেড ফাঁকা। ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে হাসপাতালের ৩৬, ২৭ ও ৩৭ ওয়ার্ডের সামনের বারান্দার মেঝেতে দুইজন রোগীকে মশারি টনিয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।

তারা জানায়, তাদের দুজনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ওয়ার্ডে বেড নেই অজুহাতে তাদের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, হাসপাতালের নিচতলার অপর ওয়ার্ডেও কয়েকজন ডেঙ্গু রোগীকে একই ভাবে মশারি দিয়ে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ডাক্তার ঠিকমতো আসে না। আর ওয়ার্ডে বেড নেই বলে তাদের বারান্দার মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নেয়া রোগীরা জানিয়েছেন, ফ্যান না থাকায় গরমে কষ্ট পাচ্ছেন। বারান্দায় থাকায় মশা-মাছি ও হাসপাতালের দুর্গন্ধ তাদের অস্বস্থি বাড়ছে।

তারা আরো অভিযোগ করে জানান, রামের হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ডেঙ্গু কর্ণারে তালা দেয়া যৌক্তিক নয়।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস ডেঙ্গু কর্ণারে তালা দেয়া প্রসঙ্গে বলেন, ঠিক বন্ধ সেটি বলা যাবে না, প্রয়োজন পড়লে কেবিনগুলো ব্যবহার করা হবে।

তিনি আরো জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে সকলকে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। আর যাদের অবস্থা গুরুতর নয়, তাদের ওয়ার্ডে নেয়া হয়নি।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্ভবের পর রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার সরকারী বিভিন্ন হাসপাতালে সকাল পর্যন্ত ৭৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে বগুড়াবাসীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন সর্বোচ্চ ২৫৯ জন।

এছাড়া রাজশাহীতে ১৭৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৯ জন, নওগাঁয় ৪৭ জন, নাটোরে ২২ জন, জয়পুরহাটে ১৫ জন, সিরাজগঞ্জে ১৪৭ জন ও পাবনায় ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১১১ জন। বিভাগটিতে রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন ১২০ জন।

এদিকে ১৫ জুলাইয়ের পর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ১৭৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসা সেবা নিয়ে ফিরে গেছেন ৯১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৮২ জন রোগী। রোববার সকাল থেকে সোমনার সকাল পর্যন্ত ২৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে সেবা নিয়ে ফিরে গেছে ১৫ জন। আর আইসিইতে ভর্তি আছেন একজন রোগী।

উপরে