এক সাইফুলে অতিষ্ঠ হাসপাতালে কর্মরতরা

এক সাইফুলে অতিষ্ঠ হাসপাতালে কর্মরতরা

প্রকাশিত: 03-08-2019, সময়: 23:50 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন কর্মরতরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এক শিবির নেতার দৌরাত্মে। এক সময় ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন সাইফুল আলম। সেই সুবাদে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরি।

বয়স অল্প হলেও স্বল্প দিনেই উঠেছেন বড় পদে। এখন তিনি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র প্রশাসনিক ইনচার্জ। এখানে তার ওপরের একমাত্র কর্মকর্তা পরিচালক ডা. এসআর তরফদার। কিন্তু এই সাইফুলেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সেখানকার অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ নিয়ে কয়েকজন সম্প্রতি রাজশাহী মহানগর পুলিশে (আরএমপি) সাইফুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। তাতে বলা হয়েছে, ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে সাইফুল আলম জামায়াত-শিবিরের কাছে ‘কিলার সাইফুল’ নামে পরিচিত। মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে তিনি অস্ত্র এনে শিবিরকে সরবরাহ করতেন। ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের আতঙ্ক ছিলেন তিনি।

এখন আতঙ্কিত রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সাইফুল এখনও প্রতি মাসের শেষভাগে হাসপাতালেই স্থানীয় জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। সহায়তা করেন অর্থ দিয়ে। যে কোনো সময় ঘটাতে পারেন নাশকতার মতো ঘটনাও। এছাড়া অর্থ কেলেঙ্কারি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়াসহ নানা অভিযোগ করা হয়েছে সাইফুলের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর রাজশাহীর এই হাসপাতালটির পরিচালক পদেও পরিবর্তন হয়। এখানে স্বাধীনতা চিবিৎসক পরিষদের সাবেক জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. এসআর তরফদারকে পরিচালক করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় শীর্ষ পদে থেকে গেছেন শিবির ক্যাডার সাইফুল আলম। এখন পরিচালক হাসপাতালে কী কী কর্মকাণ্ড করেন সে খবর তিনি গোপনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পৌঁছে দেন। তবে এসবের কিছুই টের পান না হাসপাতাল পরিচালক।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বনভোজনের নামে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে সাইফুল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা তুলেছেন। কিন্তু বনভোজনের খরচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বহন করেছে। ফলে এই টাকা সাইফুল আত্মসাত করেছেন। জামায়াতের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য এই টাকার একটা অংশ চলে যেতে পারে বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশঙ্কা। সাইফুল এখন সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বদলি এবং শোকজ করেন কথায় কথায়। তার কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেম্বার ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে কারও কারও সঙ্গে তার অত্যন্ত ভাল সম্পর্কও আছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একজন নার্সের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিলেন সাইফুল। সরকারি চাকরি হলে ওই নার্স হাসপাতাল থেকে চলে যান। বর্তমানে আরেকজন নার্সের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি সবাই জানলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পান না।

সাইফুল আলমের সঙ্গে রহস্যজনক কারণে পরিচালক এসআর তরফদারের সুসম্পর্ক। তাই ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন সাইফুল। কয়েক মাস আগে সাইফুলের বদলি আদেশ হলেও তা ঠেকিয়েছেন পরিচালক। তার আস্কারায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন সাইফুল। তবে কয়েকদিন আগে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন থেকে হঠাৎ একটি দল রাজশাহী এসে সাইফুলের নানা অপকর্মের খবরের সত্যতা যাচাই করে গেছে।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, সাইফুলের অপকর্ম এবং জামায়াতপ্রীতির খবর পুলিশের কর্তারাও জানেন। এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে সাইফুল আলম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রায় ৪০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রশাসনিক পদে থাকলে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা যায় না। যাদেরকে সুবিধা দেওয়া হয় না তারাই এ ধরনের অভিযোগ করছেন। এগুলোর কোনো সত্যতা নেই।

হাসপাতাল পরিচালক ডা. এসআর তরফদার বলেন, কয়েকদিন আগে পুলিশের কর্মকর্তারা অভিযোগটি তদন্ত করতে এসেছিলেন। আমি বলেছি, অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলেন, হাসপাতালে সবাইকে তো আর ছাটাই করা যায় না। তবে আমি সাইফুল আলমকে সতর্ক থাকতে বলেছি।

উপরে