নওগাঁয় কীট সংকট, ডেঙ্গু পরীক্ষায় বাড়তি অর্থ আদায়

নওগাঁয় কীট সংকট, ডেঙ্গু পরীক্ষায় বাড়তি অর্থ আদায়

প্রকাশিত: ০৩-০৮-২০১৯, সময়: ২২:৫০ |
Share This

আরিফুল হক, নওগাঁ : নওগাঁয় বাড়ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি। যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে তারা বেশির ভাগই ঢাকা থেকে ফিরে আসা। যাদের গায়ে সামান্য জ্বর ও শরীর ব্যাথা হচ্ছে আতঙ্কে তারাও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটে আসছেন। পরীক্ষার পর ডেঙ্গুর কোন উপসর্গ না থাকায় তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

তবে হাসপাতলে ডেঙ্গু পরীক্ষায় পর্যাপ্ত কীট না থাকায় ভোগান্তীর মধ্যে পড়তে হয়েছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। বাড়তি টাকা খরচ করে বাহিরের ক্লিনিকে পরীক্ষা করতে হচ্ছে। হাসপাতালের বাহিরে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৫০০ টাকা নেয়ার কথা থাকলেও নেয়া হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা।

এদিকে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঢাকা থেকে ঘরমুখি হচ্ছে মানুষ। এতে করে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নওগাঁ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই থেকে ২ জুন পর্যন্ত ৩০ জন রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২০ জন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। বাকী ১০ জনের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ২৩ জন পুরুষ। গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু রোগ নিয়ে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় ডেঙ্গু রোগীদের সংরক্ষিত ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই সদর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের সুখি আক্তার (২০) নামে ছাত্রীর ডেঙ্গু রোগ ধরা পড়ে। হাসপাতালে ডেঙ্গুর পরীক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় তাকে রামেকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলার মহাদেবপুর উপজেলা সদরের মোরশেদ আলী (৩৫), পত্নীতলার জুটুবটি গ্রামের সিহাব উদ্দিন (৩১), নওগাঁ সদরের চকদেবপাড়ার অ্যাডভোকেট শেখ আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫), উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত সবুজের স্ত্রী সাবিহা খাতুন (২২), হাট-নওগাঁর সাবিহা আক্তার (১৮), মাহাবুব আলম (২০), উল্লাসপুরের রুহুল আমিন (১৯), দুবল হাটির আবুল কালাম আজাদ (৭০), মহাদেবপুরের মুঘইল গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান (২৫), রানীনগরের আবাদপুকুর গ্রামের কলেজ ছাত্র মেহেদী হাসান (২০), সদর উপজেলার চাকলা বক্তারপুর গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সিফাইত জান্নাত তিথি (২০), মান্দার তুরুগবাড়িয়া গ্রামের লাইলী বেগমসহ (৪০) ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়।

যারা ডেঙ্গুকে আক্রান্ত হয়ে নওগাঁয় ফিরিছেন তাদের কেউ ঢাকাতে পড়াশুনা এবং আবার কেউ আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে চারজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে শরীরে জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়ায় রোগীদের পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ‘এনএস-১’ থাকলেও অন্যান্য সরঞ্জাম নাই। ফলে ডেঙ্গু রোগ নির্নয়ে ‘আইজিজি ও আইজিএম’ পরীক্ষার জন্য বাহিরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে রোগীদের। ডেঙ্গ পরীক্ষার জন্য শহরের ‘ডক্টরস ল্যাব এন্ড মেডিকেল সার্ভিসেস এবং ল্যাব এইড’ এ শনিবার সকালে রোগীদের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। ডেঙ্গুর কীট না থাকলেও হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে।

নওগাঁ শহরের হাট-নওগাঁ মহল্লার সাহেরা বিবি বলেন, গত কয়েক দিন থেকে জ্বরে ভুগছিলাম। নওগাঁ সদর হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখানো হলে দুইটি পরীক্ষা দেন। বাহিরের ক্লিনিকে ‘সিবিসি ও এনএস-১’ পরীক্ষা করালাম ৯০০ টাকা দিয়ে। এখনো রিপোর্ট হাতে পাইনি। রোববার রিপোর্ট দিবে।

নওগাঁর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রওশন আরা খানম বলেন, ডেঙ্গু রোগী সনাক্তকরণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ‘এনএস-১’ ১০০টি নিয়ে আসা হয়েছে। যারা জ্বর নিয়ে হাসপাতালে প্রাথমিক ভাবে ভর্তি হয়েছিল তাদের এ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় ‘এনএস-১’ পর্যাপ্ত না থাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ডেঙ্গু রোগ নির্নয়ে আরো যে যন্ত্র ‘আইজিজি ও আইজিএম ডিভাইস’ লাগবে সেগুলোর জন্য ইতোমধ্যে ঢাকায় চাহিদা পাঠানো হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার হাসপাতালে পর্যাপ্ত – স্যালাইন ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট।

তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক হওয়ার কোন কারন নেই। আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে এজন্য চারপাশে পরিস্কার রাখতে হবে।

উপরে