জীবন বাঁচাবার জন্য ডাক্তার হবার প্রয়োজন নেই

জীবন বাঁচাবার জন্য ডাক্তার হবার প্রয়োজন নেই

প্রকাশিত: ২৬-১০-২০১৮, সময়: ২১:৫২ |
Share This

ডাঃ মাহফুজুর রহমান রাজ : থ্যালাসেমিয়া এক নীরব ঘাতক। যন্ত্রনা ভোগ করছে অপাপবিদ্ধ স্বপ্নাতুর কতগুলো হাসিমাখা শিশুদের মুখ। আর তিলে তিলে নীরব যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত কতগুলো উচ্ছাসহীন বাবা মা’র বিষন্ন প্রাণ।

ডাঃ মাহফুজুর রহমান রাজ

থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুগুলো জন্মের সময় কপালে লিখে নিয়ে আসে বড় হবার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে। শিশুর জন্মের পর বাবা মার যে উচ্ছ্বাস তা কিছুদিন পরে শেষ হয়ে যায় যখন জানতে পারে তাদের আদরের শিশুটা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত। শিশু টাও একটু বড় হয়ে জানতে পারে প্রতি মাসে দুবার তার নরম হাতে সূচ ফোটাতে হবে তাকে অপেক্ষা করতে হবে অন্য এক মানুষের দান করা রক্তের। সেই সাথে জীবনের কোন কিছু দেখার আগেই এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে। বাবা-মা’কে এরপরও শুরু করতে হয় যুদ্ধ। যার শেষ পরিণতি হেরে যাওয়া ।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের প্রতি মাসে অন্তত দুই ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। সেই সাথে রক্তে আয়রনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার জন্য সেটা কমাতে দিতে হয় আয়রন চিলেটং এজেন্ট। এদেশের বেশিরভাগ শিশুর বাবা-মা’র আয়রন চিলেটিং এজেন্ট দেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকে না। রক্ত পেতেই তো তাদের দিনরাত এক করে দিতে হয় প্রতি মাসে। এক সময় বাচ্চার স্প্লিন বড় হয়ে যায়। বাচ্চার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এভাবেই অনেক কষ্টে বয়স বেড়াতে বেড়াতে এক সময় শেষ হয়ে যায় বাচ্চার জীবন। এ এমন এক গল্প যেখানে ন্যুনতম আনন্দ নাই শুধু কষ্ট আর কষ্টের প্রতিচ্ছবি।

অথচ চাইলেই কত সহজে এইসব ক্লান্ত শিশুদের যুদ্ধটাকে একটু হলেও সহজ করে দিতে পারি, ভেবেছি কি? যে বয়সে যে সময়ে প্রাণোচ্ছল হাসিতে চারপাশ ভরিয়ে দিয়ে আলো ছড়ানোর কথা, তখন এইসব হতভাগ্য শিশুরা হাসপাতালের শুকনো বিছানায় শুয়ে নরম হাতের শিরার সূচ ফোটানোর জন্য ক্লান্ত হাত বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। আমাদের কারো রক্তের আশায়।

আপনি কি জানেন বাংলাদেশে যত রক্ত দান করা হয় তার ৪০ ভাগই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য লাগে? তবুও অপ্রতুল। রক্তের হাহাকার। কারও কারও মাসে চার ব্যাগও রক্ত লাগে।

রক্ত দিলে কি হয়?

নিয়মিত রক্তদানে আপনার হার্ট এটাকের সম্ভবনা ৮৮ ভাগ এবং স্ট্রোক হবার সুযোগ ৩৩ ভাগ কমে যায়। আপনার শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমা হবার সম্ভাবনা কমে আসে। এমনকি নিয়মিত রক্তদানে আপনার ক্যান্সার হবার সম্ভবনা কমে যায়। শুধু তাই নয় নিয়মিত রক্তদান করলে প্রতি চার মাস পর পর আপনার শরীরে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এবং এইডস এর জীবানু এইচআইভির স্ক্রীনিংও হয়ে যায়। রক্ত দেয়ার সাথে ডোনার এর শরীরে নতুন ব্লাড সেল তৈরী হওয়া শুরু হয় এবং সব লোহিত কণিকা দুই এক মাসের মধ্যেই তৈরি হয়ে যায়। এভাবে এই প্রক্রিয়া মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

নিয়মিত রক্ত দানে শরীরের ক্যালরি বার্ণ হয়। ৪৫০ মিলি রক্তদানে প্রায় ৬৫০ ক্যলরি বার্ণ হয়। যেটা জীমে গিয়ে আমরা বার্ণ করি। সর্বোপরি রক্তদানে বাড়তি কোন খরচ ছাড়াই একটি প্রাণ বাচে, বাচে অনেক আশা, বেচে যায় কিছু আলো ছড়ানো হাসি আর কিছু উজ্জ্বল চোখ।

তাই সেহরী পার্টির চেকইনের বদলে রক্তদানের চেক ইন দেন। রক্ত দেয়ার ছবি পোস্ট করুন। মানুষকে উৎসাহিত করুন। আমাদের অনেক রক্তের প্রয়োজন। অনেকগুলো অবুঝ আর নিষ্পাপ ফুলের মত কিছু শিশুদের বাচাতে।

শুধুমাত্র অনীহা আর আমি নিশ্চিত এতটুকু সুইয়ের খোচার জুজুর ভয়ে আমরা অনেকেই রক্ত দিতে চাই না। আমি অশিক্ষিত কিংবা যারা জানে না তাদের কথা বলি না, কিন্তু শিক্ষিত মানুষরা এগিয়ে এলে কত মানুষের, কতগুলো শিশুদের প্রাণ রক্ষা হয় ভাবতেও পারি না।

আল্লাহর রহমত, যে আল্লাহর সেরা সৃষ্টিকে বাঁচাতে আপনাকে আল্লাহ সুযোগ করে দিয়েছেন। আপনি যেন উপকার করতে পারেন তার ব্যবস্থা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা নিজেই করে দিয়েছেন। এই সুযোগ আমাদের সক্ষম সবার নেয়া উচিত। আপনি আপনার সন্তান, ছোট ভাইবোন অথবা অনুজদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে রক্ত দানে উৎসাহিত করুন।

লেখক: চিকিৎসক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তথ্য সূত্র : ডা: আখতার ইমাম আদন

Leave a comment

আরও খবর

  • মহাপরিচালকের আদেশ অমান্য করে রাজশাহীতে স্বাস্থ্য পরিদর্শকে পদায়ন
  • হাজিরা না দিয়েও প্রতি মাসে বেতন উত্তোলনের অভিযোগ
  • ঘরোয়া ৬ টোটকায় সারান পেট খারাপ
  • খাদ্য তালিকায় তেঁতুল রাখবেন যে কারণে
  • গোদাগাড়ীতে ফ্রি ডেন্টাল এ্যান্ড ডায়াবেটিক ক্যাম্প
  • বর্তমান সরকারের আমলে উন্নত গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্য সেবা
  • গর্ভাবস্থায় রক্তপাত মানেই গর্ভপাত নয়
  • মাত্র এক গ্লাসেই উধাও হবে পাকা চুল!
  • অ্যাজমা কেন ও কীভাবে হয়?
  • চিকিৎসক-সেবিকা সংকটে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
  • নাচোলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ১ জনের মৃত্যু
  • সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গুনতে হয় বাড়তি টাকা
  • আবহাওয়ার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে ব্যথার কোন সম্পর্ক আছে কি?
  • ভোলাহাটে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
  • ডা. দেবী শেঠীকে একদিন হলেও রাজশাহীতে আনার চেষ্টা করবো : মেয়র লিটন


  • উপরে