১৯০ কেন্দ্রে এগিয়ে তাপস

১৯০ কেন্দ্রে এগিয়ে তাপস

প্রকাশিত: ০১-০২-২০২০, সময়: ১৯:০৭ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট শেষে শুরু হয়েছে ফলাফল ঘোষণা। যাতে দুই সিটিতেই এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম। শনিবার সন্ধ্যায় পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মোট ১ হাজার ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯০টি কেন্দ্রের ফলাফলে নৌকা প্রতীকের ফজলে নূর তাপস পেয়েছেন ৭৯,০৭৯ ভোট। এ পদে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ৩৮,৫৫২ ভোট।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১ হাজার ৩১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৬১টি কেন্দ্রের ফলাফলে নৌকা প্রতীকের আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪,১৯৪ ভোট এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ১২,৪৭৭ ভোট।

এদিন বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষ হলে সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ৫টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএসসিসির ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়। ফল ঘোষণা করছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ও ডিএসসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন।

এর আগে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। ইভিএম জটিলতাসহ বিভিন্ন অভিযোগের মধ্য দিয়ে ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট শেষে দক্ষিণের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে একে একে ভোটের ফলাফল ও সরঞ্জামাদি নিয়ে এখানে আসতে থাকেন বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসাররা।

এবারে ঢাকার দুই সিটিতে প্রথমবারের মতো ২ হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্রের ১৪ হাজার ৪৩৪টি ভোটকক্ষে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৯ জন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার হচ্ছে ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। এর মধ্যে নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। আর ডিএসসিসিতে ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন ভোটার রয়েছেন; যাদের মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন।

এদিকে, সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া, এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়াসহ নানা অভিযোগ জানাতে থাকেন বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এমনকি কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

তবে দুই সিটিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টা সম্পূর্ণ অমূলক। তাদের (বিএনপি) তেমন সাংগঠনিক কাঠামো নেই, তাই তারা আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে এসব অভিযোগ করছে তারা।

বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, অনেক কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে শেষ দৃশ্য দেখার জন্য ভোটের মাঠে আছি। দেখি নির্বাচন কমিশনের মনোভাব বদলায় কি-না। আমরা হাল ছাড়ছি না। মনোবল ভাঙছি না।

এদিকে, সকালে ভোট শুরুর পরপরই দুই সিটির বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম বিভ্রাট দেখা দেয়। এতে অনেকের ভোট দিতে কমপক্ষে ৪০ মিনিটের মতো লেগেছে বলেও জানিয়েছেন ভোটাররা। আবার আঙুলের ছাপও মেলেনি অনেকের।

এরমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাও রয়েছেন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে আইডি কার্ডের মাধ্যমেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন সিইসি।

তবে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) নির্বাচনের ভোটের দিনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’

এদিকে, সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘ভোটার ও এজন্টেদের বের করে দেয়ার যে দাবি বিএনপির পক্ষ থেকে করা হচ্ছে সে দাবি নতুন নয়।’

এদিন রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিজের ভোটদানের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে ভোটার কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’

Leave a comment

উপরে