২০২০ সালের মে মাসে ৩ সিটিতে ভোটের পরিকল্পনা

২০২০ সালের মে মাসে ৩ সিটিতে ভোটের পরিকল্পনা

প্রকাশিত: ১২-০৬-২০১৯, সময়: ১৪:২৫ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আগামী বছরের মে মাসে ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিন সিটির সবগুলো কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর মে মাসে ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য তারিখ রেখে খসড়া করা হয়েছে। কমিশন চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। মাঠ পর্যায়ে রিপোর্টও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল একসঙ্গে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির ভোট হয়েছিল। এরপর ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রথম সভা হয় ওই বছরের ১৪ মে, দক্ষিণ সিটিতে ১৭ মে ও চট্টগ্রাম সিটিতে প্রথম সভা হয় একই বছরের ০৬ আগস্ট। সেই হিসাবে ঢাকা উত্তরের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত, দক্ষিণে ওই বছরের ১৬ মে পর্যন্ত। চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুলাইয়ে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যেকোনো সময় ভোট করতে হবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই আগামী বছরের মে মাসকে ভোটের জন্য প্রাথমিক তারিখ হিসেব নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর বলেন, যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষের দিকে সেগুলোর বিষয়ে আমরা ফিল্ডের রিপোর্ট নিচ্ছি। এগুলোর সব রিপোর্ট পেলেই কমিশন বসবে। কমিশন সিদ্ধান্ত দিলে আমরা তা বাস্তবায়ন করব। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে সিটি নির্বাচন ইভিএমে আয়োজন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানোর বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সীমানা, ওয়ার্ড বিন্যাস ও অন্যান্য বিষয়ে কোনো জটিলতা রয়েছে কি না বা তিন সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কি না সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে পত্র পাঠাতে সুপারিশ করা হয়েছে।

ইসির বাজেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির ভোটের জন্য প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনে এই বাজেট উপস্থাপন করা হবে। তবে এ তিন সিটি নির্বাচনের সম্পূর্ণ ভোটই যেহেতু ইভিএমে হবে, তাই এই বাজেট কিছুটা বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের ভোটের আয়োজনে নতুন অর্থবছরের বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে স্থানীয় সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ফলে এ তিন সিটির নির্বাচনেও ইভিএমে ভোট হবে। সর্বশেষ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হয়। এর আগে গত ১০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ নির্বাচন কমিশন সভা শেষে জানান, ‘আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।’

২০১৭ সালে বর্তমান ইসির উদ্যোগে আনা আগের চেয়ে উন্নত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের যাত্রা শুরু হয়। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে ইভিএম চালু করা হয়। সিটি নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে চালুর পর সংসদের ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করে সংস্থাটি। এরই মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় লাখ ইভিএমের জন্য একটি প্রকল্পও রয়েছে, যার বাস্তবায়নকাল জুলাই, ২০১৮ থেকে জুন, ২০২৩ পর্যন্ত।

উপরে