শিবগঞ্জ আ.লীগে আরেক নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি

শিবগঞ্জ আ.লীগে আরেক নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ১১-০১-২০১৯, সময়: ১৪:২২ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদে বিজয়ের পর জনপ্রিয় হেভিওয়েট নেতাদের পুণ্যভূমি খ্যাত শিবগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন চাঙ্গা অবস্থানে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দু’টিতে বিপর্যয় ঘটলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনটি ধরে রাখতে সফল হয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

প্রয়াত জনপ্রিয় নেতা ডা. মঈন উদ্দিন আহমেদের (মন্টু ডাক্তার) রাজনৈতিক দক্ষতায় আসনটি একসময় আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও পরবর্তীতে তা বিএনপি-জামায়াতের দখলে চলে যায়। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বর্তমানে অত্র উপজেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থান আবারো শক্তিশালী হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্টু ডাক্তারের সুযোগ্য সন্তান ডা. শিমুলকে এমপি নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগ অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে। এরইমাঝে দরজায় কড়া নাড়ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। সদ্য ঘরে তোলা বিজয়ের ধারাবাহিকতায় সামনের নির্বাচনেও জয় নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিগত ২০০৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। আর ২০১৪ সালে জায়ামাত-বিএনপির আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে দলকে সাংগঠনিকভাবে বিপদমুক্ত করতে পারলেও চেয়ারম্যান পদে জয়ী হতে পারেননি আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান। সেসময় তাঁর পোস্টার, ফেস্টুন সাটানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সন্ত্রাসী কায়দায় ছিঁড়ে ফেলতো সন্ত্রাসীরা। প্রচার মাইক ভেঙ্গে ফেলেছে বারবার। নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে দূর্গম জামায়াত-শিবির, বিএনপি অধ্যুষিত এলাকায় নেতাকর্মীরা অনেকেই হামলার শিকার হয়েছিলেন নৃশংসভাবে। অনেক ভোট সেন্টারে দলীয় এজেন্টদের হত্যার হুমকি দিয়ে বের করে দেয়া হয়েছিল। তাই এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরলস পরিশ্রম করছেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। দলের ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিগত দিনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রচার ও নির্বাচনী ওয়াদা পূরণে গ্রুপিং রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে শিবগঞ্জকে মডেল উপজেলার রূপ দিতে চান তারা।

নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ২০১৪ সালের সেই আগুন সন্ত্রাসের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিপুল ভোটে আবারো আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে।’

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে আলোচনায় রয়েছেন পুরনো পরীক্ষিত প্রার্থীর পাশাপাশি আরো কিছু নতুন মুখ। সব মিলিয়ে আরেকটি নির্বাচনী লড়াইয়ের জোর প্রস্তুতি চলছে। চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের পাশাপাশি নতুন মুখও সামনে এসেছে।

এরা হলেন- জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আদিনা কলেজের সাবেক ভিপি তৌহিদুল আলম টিয়া, দূর্লভপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল কবির মুক্তা, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি টুটুল খান ও উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে সাবেক নির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান মহসীন মিঞা এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে শিউলী বেগম আবারো নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন বলে এলাকায় প্রচারণা আছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ত্যাগ-তীতিক্ষার পর শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আজ ঐক্যবদ্ধ। এই সময়ে নতুন করে কোন পরীক্ষামূলক প্রার্থী দিলে সেটা হবে ভোট-বিপর্যয়ের কারণ ও গ্রুপিং সৃষ্টির ইন্ধন। তারা চাননা শিবগঞ্জে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসন বা ভোলাহাট-গোমস্তাপুর সংসদীয় আসনের মতো নির্বাচনী পরাজয় বরণ করতে। তাই সামনের নির্বাচনে অভিজ্ঞ পরীক্ষিত নির্ভীক ত্যাগী পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে আর সুসময়ে অনেকেই প্রার্থী হতে চাইবেন। এমনটাই স্বাভাবিক মনে করছেন তারা।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বলেন, ‘‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একদিনের জন্যও মাঠ ছাড়িনি। নেতাকর্মীর পাশে থেকেছি। খেটে-খাওয়া সহজ-সরল মানুষদের জন্য কিছু করার অভিপ্রায় নিয়ে ছাত্রজীবনেই আমার রাজনীতিতে আসা। মন্টু ডাক্তার সভাপতি থাকাকালে উনার সাথে থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। দীর্ঘদিন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে দলের উপজেলা সেক্রেটারী হিসেবে যতটুকু করা সম্ভব নিজের সেই অবস্থান থেকে মানুষের সেবা করেছি। রাজনীতি কখনোই আমার পেশা ছিলনা। পেশাগত দিক থেকে একসময় হাইস্কুল শিক্ষক হিসেবে, পরবর্তীতে কলেজ শিক্ষক হিসেবে এবং বর্তমানে আইনজীবী হিসেবে সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছি সবসময়, এখনো করছি।

‘‘অন্যদিকে দলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে কাজ করছি। ৮৬’র স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে কারা নির্যাতিত হয়েছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- রাজনীতিতে নেয়ার কিছু নেই, দেয়ার আছে। নেতাকর্মীদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ঋণী। তারা নিজের মানুষ মনে করে আমাকে কাছে টেনেছেন, বিপদে আমার কাছে এসেছেন। তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করে যাবো আজীবন। বাস্তবতার কারণে অনেক কিছু করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তারাও এটা ভালোভাবে অনুধাবন করেন। সামনে উপজেলা নির্বাচনের সুযোগ পেলে আমার দলের জন্য, এলাকার মানুষের জন্য সবটুকু ঢেলে দিতে প্রস্তুত আছি। দল আমাকে মূল্যায়ন করবে, নেত্রী মূল্যায়ন করবে। আমি তৃণমূলের ভেতর থেকে উঠে আসা মানুষ। আমার সাথে তৃণমূলের একজন কর্মীর কোন পার্থক্য নেই। এই পরিচয়েই আমি স্বস্তি বোধ করি।’’

আরও খবর

  • ছবিতে রাজশাহীর স্বাধীনতা দিবস পালন (ভিডিওসহ)
  • রাজশাহীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষিকা ভাবির গুরুতর অভিযোগ
  • ১ এপ্রিল থেকে সব কোচিং বন্ধ
  • রাজশাহীতে ঘুমন্ত পুলিশের উপর হামলা
  • অর্থে আটকে গেছে পুঠিয়ার মেধাবী ছাত্র সেলিমের চিকিৎসা
  • তৃতীয় ধাপে উপজেলায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান ৩৬
  • দরকার গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
  • একাত্তরের গণহত্যার প্রসঙ্গ ‘আলোচনায় তুলবে জাতিসংঘ’
  • ভোটের হার নিয়ে মাথা ব্যথা নেই ইসির
  • রাজশাহীতে লেভেল ক্রসিং সামলাচ্ছেন যে নারী
  • রাজশাহীতে নৌবন্দর স্থাপনে পদ্মায় খনন
  • রাজশাহীর বিস্তীর্ণ সীমান্তে কেন থামছে না মৃত্যুর মিছিল?
  • সপ্তাহে তিনটির বেশি ডিম খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি
  • রাজশাহীর সাংস্কৃতির ঐতিহ্য ফেরাতে চান মেয়র লিটন (ভিডিওসহ)
  • ওবায়দুল কাদের সস্পূর্ণ সুস্থ



  • উপরে