যে কারণে নড়বড়ে মান্দা আওয়ামী লীগ

যে কারণে নড়বড়ে মান্দা আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: ০৬-১২-২০১৮, সময়: ১৫:৩৬ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিক। নওগাঁ-৪ আসনের বর্তমান এমপি তিনি। অথচ তার কারণেই নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের নড়বড়ে অবস্থা।

বর্ষীয়ান এ রাজনীতিকের রাজনৈতিক খায়েশ পূরণ আর নিষ্কৃয়তায় দারিদ্রপীড়িত এই উপজেলায় এরই মধ্যে একবার হাতছাড়াও হয়েছে নৌকার জয়। সেটা ২০১৪ সালে। সেবার উপজেলা নির্বাচনে ৫৫৬ ভোটে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তেমন আশঙ্কা প্রবল। কেননা নওগাঁ-৪ আসনে দলের জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন না খোদ স্থানীয় নেতাকর্মীরাও।

নেতাকর্মীদের সব অভিযোগ বর্তমান সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিক, থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমদাদুল হক মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে। তারা জনবিচ্ছিন্ন, তারা দলীয় কার্যক্রম নিস্কৃয় করে দলকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে রেখেছেন; এমন অভিযোগ নেতাকর্মীদের। তৃণমূলের নেতাকর্মী, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই চিত্র।

তাদের মতে, এই আসন ধরে রাখতে এবার কেন্দ্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য দরকার প্রার্থী বাছাইয়ে মনোযোগী হয়ে তৃণমূলের চাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া। জনবিচ্ছিন্ন ও বয়সের ভারে ন্যূব্জ বর্তমান এমপি পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিককে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থীর হাতে নৌকা প্রতীক দিতে হবে। নির্বাচন থেকে দুরে রাখতে হবে আওয়ামী লীগের দুর্নীতিপরায়ন স্থানীয় নেতাদের।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের এখন পর্যন্ত প্রার্থী রয়েছেন আটজন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক, বিএনপির সামসুল আলম প্রামানিক, ডা: ইকরামুল বারি টিপু ও আব্দুল মতিন, জাতীয় পার্টির (এ) এ্যাড. এনামুল হক, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাইদুর রহমান বকুল, সিপিবির ডা: ফজলুর রহমান এবং ইসলামি আন্দোলনের শহিদুল হক।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী রয়েছেন তিনজন। এরা হলেন, ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক, এনামুল হক ও সাইদুর রহমান বকুল। এই তিনজনের মধ্যে একজন নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করবেন। মহাজোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাকি দুইজন প্রত্যাহার করবেন।

স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগতভাবে বর্তমান সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিকের কোনো আর্থিক কেলেংকারি নেই। তবে মন্ত্রীর এলাকায় না আসা, জন বিচ্ছিন্নতা এবং মন্ত্রী থাকার পরও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা না রাখা ও ২০০৫ সালের পর মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল না করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়াও মন্ত্রীর সবচেয়ে আস্তাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত মান্দা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমদাদুল হক মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, হাট-বাজার, ঘাটের দখল, সরকারি খাদ্য গুদামের দখলের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। মূলত: এ কারণেই নড়বড়ে অবস্থা মান্দা আওয়ামী লীগে।

মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তৃণমূল আওয়ামী লীগের অভিযোগ, গত উপজেলা নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীনকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দলের নেতৃত্ব এবং এ আসন কুক্ষিগত করে রাখতে মন্ত্রী একযুগের বেশি সময় ধরে আটকে রেখেছেন থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। ফলে এই দীর্ঘ সময়টা থানা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আঁকড়ে আছেন মন্ত্রীর দুই আস্তাভাজন এমদাদুল হক মোল্লা ও জসীম উদ্দীন। এর ফলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। সংগঠন হিসেবে শক্তি হারিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

এক সময়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল মান্দা উপজেলার। এ আসনে বিএনপির পরাক্রমশালী নেতা ছিলেন শামসুল আলম প্রামাণিক। কিন্তু ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন বর্তমান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ প্রামানিক। ওই নির্বাচনে তার কাছে পরাজিত হন শামসুল আলম প্রামাণিক। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সে সময়ের থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ শেখ তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। পরে ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিক আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলত্যাগ করে জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) প্রার্থী সাইদুর রহমান বকুলকে পরাজিত করেন।

এবারের নির্বাচনেও তারা দুইজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা মহাজোটের দুই দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে জোটগত ভাবে নৌকা প্রতীক দেয়া হবে।

তৃণমূল আওয়ামী লীগের দাবি, এবার ইমাজ প্রামানিককে দিয়ে আসনটি ধরে রাখা সম্ভাব নয়। এ আসনে মহাজোটের তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। ইমাজ প্রামানিককে বাদ দিয়ে অপর দুইজনের মধ্যে একজনকে নৌকা প্রতীক দিলে আসনটি ধরে রাখা সম্ভাব। সূত্র- বাংলানিউজ

Leave a comment

আরও খবর

  • আ.লীগ ২৫৮, জাপা ২৬, অন্যান্য ১৬
  • রাজশাহী বিভাগে নৌকার বিরুদ্ধে ১৬ আসনে লড়বে লাঙলের প্রার্থীরা
  • বিএনপির ২৪২ আসন, শরিকদের ৫৮
  • কৌশলে বিএনপির চেয়ে এগিয়ে আ.লীগ
  • নৌকা প্রতীকে লড়বেন জাতীয় পার্টির যে ২৯ প্রার্থী
  • নাদিমকে ঠেকাতে মিনুর নাটক
  • সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার
  • বাদশার ক্লিন ইমেজেই আস্থা রাজশাহী নগরবাসীর
  • বিএনপির দুই জোটে সর্বাধিক আসনে ছাড় জামায়াতকে
  • ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এগিয়ে যাব’
  • মনোনয়ন বঞ্চিতদের মূল্যায়নে শেখ হাসিনার চিঠি
  • আ.লীগের ৪ নেতা নির্বাচনের ‘বিশেষ দায়িত্বে’
  • রাজশাহী-৫ আসনের ভোটে নতুন সমীকরণ
  • ২০৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী যারা (তালিকাসহ)
  • রাজশাহীতে ধানের শীষ পেলেন যারা


  • উপরে