নির্বাচন বিজয় দিবসের পরপরই

নির্বাচন বিজয় দিবসের পরপরই

প্রকাশিত: ১৯-১০-২০১৮, সময়: ১৪:০২ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব সারার পথে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ইসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছে। ওই সময় ইইউয়ের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন দেখতে চায় ইইউ।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী রবিবার নির্বাচন কমিশনের সভায় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণ বিধিমালা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন যাচাই) বিধিমালা সংশোধনসহ নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এরপর ১ নভেম্বর এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কমিশনের সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা আছে। সে সাক্ষাতের পর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে ৪ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে। আসন্ন নির্বাচনে ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের জন্য প্রায় সাড়ে সাত লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা ৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত করবে ইসি।

সূত্র মতে, এরই মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে ইসি সচিবালয়ের। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইসি সচিবালয়কে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১৪ ডিসেম্বরের আগেই সব পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে। এ সময়ের মধ্যে সব পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশনা পেয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ২০১৩ সালের ১৬ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯ নভেম্বর। আর ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী ২০ ডিসেম্বর বা তার আগেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। এই সম্ভাবনার পক্ষে তাঁদের যুক্তি, আগের নির্বাচনগুলোর ভোট হয়েছিল তফসিল ঘোষণার ৪০ থেকে ৪৫ দিনের ব্যবধানে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৪৫ দিন আগে। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা ওই তফসিল অনুসারে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এরপর সব রাজনৈতিক দলের সমঝোতার মাধ্যমে ২৩ নভেম্বর পুনঃ তফসিল ঘোষণা করে ২৯ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল তাতে ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, বাছাই ৫ ও ৬ ডিসেম্বর, প্রত্যাহার ১৩ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণের তারিখ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। এতে তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণে সময়ের ব্যবধান ছিল ৪০ দিন। এবারও ২ ও ৩ নভেম্বর সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ৪ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিজয় দিবসের উৎসবের পরপরই ১৮ থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো দিন ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে সার্বিক পরিস্থিতি এবং ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে সংসদ নির্বাচনের একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়। ওই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ অথবা ৮ নভেম্বর তফসিল দিয়ে ২০ থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো দিন ভোট করার প্রস্তাব রাখা হয়। তবে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ১২ থেকে ১৪ তারিখ তফসিল দিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ করার কথাও বলা হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সময় আছে আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। সংবিধান অনুযায়ী দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। সে হিসাবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। ওই ৯০ দিনের শুরু হচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবর।

Leave a comment

আরও খবর

  • ৩০০ আসনে নৌকার মাঝি হতে চান সাড়ে ৩ হাজার
  • নির্বাচন অংশ নিচ্ছেন না ড. কামাল
  • ভোট পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর
  • তফসিলের পর প্রথম বৈঠকে মন্ত্রিসভা
  • বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু, খালেদার জন্য ৩টি
  • স্বতন্ত্র লড়বে জামায়াত, টার্গেট ৩০ আসন
  • গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, নিহত ৭
  • রাজশাহীর ২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেবে জামায়াত
  • ‘আ.লীগ জোটে আসছে যুক্তফ্রন্ট’
  • নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত সোমবার
  • সোমবার থেকে মনোনয়ন ফরম ছাড়বে বিএনপি
  • নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা ঐক্যফ্রন্টের
  • রাজশাহী বিভাগে আ.লীগ-বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন যারা
  • জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু
  • ৩০০ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন যারা (তালিকাসহ)


  • উপরে