জুয়ার অর্থনীতি ৪৫ হাজার কোটি ডলারের

জুয়ার অর্থনীতি ৪৫ হাজার কোটি ডলারের

প্রকাশিত: ২৯-০৯-২০১৯, সময়: ১০:৩০ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে জুয়ার অর্থনীতিও অনেক বড়। পকেটে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে ক্যাসিনোতে ছুটে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও অনেক।

২০১৮ সালে বৈশ্বিক এ শিল্প প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন বা ৪৫ হাজার কোটি ডলার। প্রতিবছর গড়ে ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এ শিল্পে। ২০২২ সাল নাগাদ বৈশ্বিক জুয়ার অর্থনীতি সাড়ে ৫৬ হাজার কোটি ডলারে ঠেকবে।

জুয়া শিল্পের মধ্যে বড় অংশজুড়ে রয়েছে ক্যাসিনো। এ ছাড়া লটারি ও হাউজি এবং স্পোর্টস বেটিং ও অন্যান্য সেগমেন্ট এ শিল্পের কলেবর দিন দিন বাড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্স অ্যান্ড মার্কেটের ‘গ্যাম্বলিং : গ্লোবাল মার্কেট অপরচুনিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস-২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে- বিশ্বের প্রাচীন জনপ্রিয় এ শিল্পের বাজার প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে।

উদীয়মান বাজারে প্রবৃদ্ধি, দেশগুলোর অনুকূল ভিসানীতি ও পদক্ষেপ, দ্রত নগরায়ণ, অনলাইন জুয়া বৃদ্ধি, নারী জুয়াড়ির সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নানা সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে এ শিল্প অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাসিনোর বিশ্ববাজার ২১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের, লটারি ও হাউজির ২০ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার এবং স্পোর্টস বেটিং অন্যান্য সেগমেন্টের বাজার ৩ হাজার কোটি ডলারের। অনলাইনে জুয়া খেলার যে ব্যবসা গড়ে উঠেছে, তাও ক্রমেই বড় হচ্ছে। ২০১৮ সালে অনলাইন জুয়ার বাজার ছিল ৫০০ কোটি ডলারের।

ক্যাসিনোর আয়ে এগিয়ে এশিয়া। ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী ক্যাসিনো থেকে যে আয় হয়েছে, তার ৪২ দশমিক ৭ শতাংশই এসেছে এশিয়া ও প্যাসিফিক থেকে। এরপরই আছে যুক্তরাষ্ট্র, ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে আছে ইএমইএ (ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকা) অঞ্চল। এ অঞ্চলের আয় ১৫ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা কানাডার আয় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সবশেষে লাতিন আমেরিকা, ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

চীনের আওতাধীন ম্যাকাও হচ্ছে বিশ্বের জুয়া খেলার সবচেয়ে বড় জায়গা। এরপরই আছে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার লাস ভেগাস। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্যাসিনো আছে এখানে। সিঙ্গাপুর হচ্ছে জুয়া খেলার আরেকটি বড় জায়গা।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জুয়া খেলে যুক্তরাজ্যের মানুষ। এরপরই আছে অস্ট্রেলিয়া। বাকি দেশগুলোর মানুষ হচ্ছে যথাক্রমে চীন ও ম্যাকাও, ভারত, আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইতালি।

বিশ্বে সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো কোম্পানি লাস ভেগাস স্যান্ডস। ১৯৮৮ সালে নেভাদায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে এ কোম্পানির বার্ষিক আয় ছিল ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার।

এরপরই আছে যুক্তরাষ্ট্রের এমজিএম রিসোর্ট (১ হাজার ১৮০ কোটি ডলার)। পরের তিন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সিজার এন্টারটেইনমেন্ট (আয় ৮৪০ কোটি ডলার), হংকংয়ের গ্যালাক্সি এন্টারটেইনমেন্ট (৭০০ কোটি ডলার) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইন রিসোর্ট (৬৭০ কোটি ডলার)। শীর্ষ দশে একটি মালয়েশিয়ান কোম্পানিও আছে, জেনটিং। তাদের আয় ১০৯ কোটি ডলার।

বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ব্যবসা চলে ক্যাসিনো নির্ভর গ্যাম্বলিং বা জুয়াকে ঘিরে চীনের মূল ভূখণ্ড আর মুসলিম কিছু দেশ ছাড়া পর্যটননির্ভর অর্থনীতির প্রায় সব দেশ আর বড় শহরগুলোতেই আছে ক্যাসিনোর রমরমা আয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের নেভাদায় সর্বোচ্চ ৩৬০টি ক্যাসিনো আছে ইউটাহ, হাওয়াই আর আলাস্কা ছাড়া ক্যাসিনো আছে দেশটির বাকি সব রাজ্যেই।

সব মিলিয়ে ১ হাজার ৯৫৪টি ক্যাসিনো চালু আছে যুক্তরাষ্ট্রে, আছে ৯ লাখের ওপর স্লট মেশিন। ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান আর বছরে ৭ হাজার কোটি ডলার আয়ের জোগান দেয় সেখানকার এই শিল্প। বিশ্বের অনেক মুসলমান প্রধান দেশেও বৈধ ক্যাসিনো আছে।

সবচেয়ে বেশি ১৭টি আছে মিসরে, যার ১৪টি শুধু রাজধানী কায়রোতেই। ৯টি আছে তুরস্কে। আফ্রিকার মরক্কোয় আছে সাতটি। এ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, আরব আমিরাত আর এশিয়ার মালয়েশিয়ায়ও ক্যাসিনোর অনুমোদন আছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১টি ক্যাসিনো আছে ভারতে।

গোয়ার পানাজি, গ্যাংটক, মুম্বাইসহ মোট ১১টি শহরে সেগুলোর অবস্থান। ৫টি ক্যাসিনো আছে শ্রীলংকায়, যার সবকটিই রাজধানী কলম্বোয়। এ ছাড়া ১১টি ক্যাসিনো আছে নেপালে আর ৫টি মিয়ানমারে। সম্প্রতি বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনেক ক্যাসিনো গড়ে উঠেছে।

Leave a comment

উপরে