অর্থ সংকটে রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা

অর্থ সংকটে রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ০৭-০৮-২০১৯, সময়: ২৩:০৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : পঞ্চাশ বছরের মধ্যে চামড়া ব্যবসায়ীর এমন বেহাল অবস্থা কখনো হয়নি ও দেখিনি। নিজের প্রায় আটকোটি টাকা বিভিন্ন ট্যানারিতে পাওনা থাকলেও এবারের ঈদে কোরবানির চামড়া কেনার টাকা নেই-কথাগুলো আক্ষেপের সাথে বললেন রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ।

তিনি বলেন, ‘ট্যানার ব্যবসায়ীরা কোন টাকা ফেরৎ দিচ্ছে না। রাজশাহী অঞ্চলে ১২৭ জন ব্যবসায়ী থাকলেও বর্তমানে ব্যবসা করছেন মাত্র ৮-১০ জন। এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ট্যানারি ও বড় বড় চামড়ার আড়তে বাকীতে মাল দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই টাকা কবে নাগাদ ফেরৎ আসবে তারও নিশ্চয়তা নেই। পুঁজি হারিয়ে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। আমার মত অনেকেই কোন রকমে ভবিষ্যতের আশায় এখনো বসে আছি’।

গত কয়েক বছর থেকেই কমেছে চামড়ার দাম। সরকারের বেঁধে দেয়া দামে সন্তুষ্ট নন রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা। এছাড়া গত চার বছরে ট্যানারি মালিকদের কাছে রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া পাওনা রয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত চামড়ার দাম কম হওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীরা।

এরপরেও ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া না কেনার অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ করেছেন রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ। তিনি বলেন, চামড়ার দাম বর্তমানে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী হাসান আলী বলেন, ২০১৪ সালের দিকে যে চামড়া ২৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে, ওই মানের চামড়া বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে হাজার বারশো’ টাকা। ট্যানারি ব্যবসায়ীর কাছে এই হাসান আলীর পাওনা রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

জানা গেছে, বর্তমানে রাজশাহীর ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে টাকার যোগান না থাকায় সরকার নির্ধারিত দরেও চামড়া কিনতে পারবেন না তারা। ফলে মৌসুমী চামড়া ক্রয়কারিদেরও লোকসানের আশংকা রয়েছে। তবে এবারে চামড়া সংরক্ষনের প্রধান উপকরণ লবনের দাম বাড়েনি।

রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মালিকদের কাছে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চার বছরের বকেয়া বাবদ প্রায় ১৫ কোটি টাকা পাবেন। এছাড়া চামড়ার দাম নির্ধারণের পরও সেই দামে কেনেন না ট্যানারি মালিকরা। ফলে চামড়া নিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়তে হয় রাজশাহীসহ সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের।

মঙ্গলবার আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানি পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম হবে ৪৫-৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসি ও ভেড়ার চামড়ার দাম সারা দেশে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ১৩-১৫ টাকা। তবে মহিষের চামড়ার দামের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে প্রতি কোরবানি ঈদে প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার গরু-মহিষ এবং ১০ হাজার ভেড়া এবং এক লাখ ছাগল কোরবানি হয়ে থাকে। রাজশাহী জেলায় প্রায় ৩৫-৪০টি চামড়ার আড়ত রয়েছে। এ আড়তগুলো থেকে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চামড়া কেনেন ট্যানারি মালিকরা।

রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, রোজার ঈদের পর থেকে চামড়ার দাম আরও কমে গেছে। বর্তমানে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা। বড় ছাগল ভেড়ার চামড়া বিক্রি হচ্ছে সবোর্চ্চ ১০-১২ টাকা। ছাগীর চামড়ার কোন দাম নেই। শ্রমিক ও লবনেই শেষ হয়ে যায়। সরকার নির্ধারিত দাম নগদে পাওয়া গেলেও ভাল। এ অবস্থায় কোরবানির ঈদে চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর কারণই হচ্ছে রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা মূলধন সংকটে রয়েছেন।

উপরে