বাংলাদেশে টাকার পরিমান ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি

বাংলাদেশে টাকার পরিমান ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি

প্রকাশিত: ১২-০৭-২০১৯, সময়: ১৩:৩২ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : গত মে মাস পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাই ঋণ নিয়েছেন ১০ লাখ ৯১৮ কোটি টাকা। টাকা ফেরত না দেওয়ায় খেলাপি দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।

এছাড়া সরকারও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রেখেছে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। আবার ব্যাংকগুলোতে (এপ্রিল পর্যন্ত) গ্রাহকদের আমানত রাখা আছে ১০ লাখ ২৬ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। তাহলে প্রশ্ন জাগে- দেশে মোট টাকা আছে কত?

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের কাগজে নোট ও ধাতব মুদ্রা রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই পাঁচশ’ ও এক হাজার টাকার কাগজে নোট। বাকিগুলো ১০০ টাকা, ৫০ টাকা, ২০ টাকা ও ১০ টাকার কাগজে নোট।

এছাড়া এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে পাঁচ টাকা, দুই টাকা ও এক টাকার কাগজে নোট ও ধাতব মুদ্রা। এমনকি ৫০ পয়সা, ২৫ পয়সা, ১০ পয়সা, ৫ পয়সা ও ১ পয়সার মুদ্রার হিসাবও এর মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিতে এগুলো ‘মানি’। এর নাম ‘রিজার্ভ মানি’ যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই রিজার্ভ মানি বা মানি সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ‘মূল্যস্ফীতি’ নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা থেকেই ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন, গার্মেন্টস ব্যবসা চলছে, স্বর্ণের ব্যবসা হচ্ছে, ব্যাংক ব্যবসা চলছে। এই টাকা থেকেই সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন বোনাস হচ্ছে। দেশের সব ধরনের শিল্পকারখানা চলছে। মুদি দোকান চলছে। আমদানি-রফতানি হচ্ছে, চাল-ডাল কেনা হচ্ছে, এই টাকা থেকেই মানুষ বিভিন্ন স্থানে ঘুরছে-ফিরছে, বিনোদন করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাস পর্যন্ত বাজারে টাকা ছেড়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা থেকেই ১০ লাখ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ১০০ টাকা কেউ ব্যাংকে জমা রাখলে ব্যাংক ওই ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকা রেখে বাকি ৯০ টাকা আরেকজনের কাছে ঋণ দিচ্ছে। আবার যিনি ৯০ টাকা ঋণ নিলেন তিনিও কিছু টাকা তুলে অথবা ৯০ টাকাই অন্য ব্যাংকে রাখছেন। সেই ব্যাংক আবার ৮ টাকা জমা রেখে বাকি টাকা আরেকজন গ্রাহককে ঋণ দিচ্ছে। এভাবে ১০০ টাকা হাত বদল ও ব্যাংক বদলের মধ্য দিয়ে এক হাজার টাকায় পরিণত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ‘মানি’কে সাধারণত দু’ভাগে ভাগ করেছে। ‘ন্যারো মানি’ এবং ‘ব্রড মানি’। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত মে মাস পর্যন্ত ব্রড মানির পরিমাণ এক কোটি ২০ লাখ ৫১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা।

সাধারণত, মানুষের কাছে যে কারেন্সি থাকে (কারেন্সি ইন সার্কুলেশন) তা-ই ‘মুদ্রা’। এই হাতের টাকা দিয়ে দৈনন্দিন খরচ করা হয়, প্রয়োজনীয় লেনদেন চলে। এর বাইরে আরও ‘মুদ্রা’ জমা থাকে ব্যাংকে। যাকে ব্যাংকাররা ‘ডিপোজিট’ বা আমানত বলে থাকেন। এটাও মুদ্রা। মুদ্রা আবার দুই ধরনের। ১০ থেকে এক হাজার টাকার নোটকে বলা হয় ব্যাংক কাগজে মুদ্রা। আর ১ পয়সা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত নোট ও ধাতব মুদ্রাকে বলা হয় সরকারি মুদ্রা। সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন

উপরে