তামাকপণ্যের কর বাড়াতে উত্তরের আট এমপির চিঠি

তামাকপণ্যের কর বাড়াতে উত্তরের আট এমপির চিঠি

প্রকাশিত: ৩১-০৫-২০১৯, সময়: ২২:৩৮ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কার্যকরভাবে করারোপের মাধ্যমে সকল তামাকজাত পণ্যের প্রকৃতমূল্য বৃদ্ধি ও শক্তিশালী তামাক শুল্ক-নীতি গ্রহনে অথমন্ত্রী বরাবর চিঠি (ডিও লেটার) দিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের আটজন সংসদ সদস্য।

চিঠিতে তারা আসন্ন বাজেটে উচ্চহারে তামাকের কর কেন বাড়ানো প্রয়োজন তার যুক্তি তুলে ধরে প্রতিবছর মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুল্কারোপের প্রস্তাব করেন। যাতে তামাকপণ্য ক্রমশ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এছাড়া তারা অবিলম্বে একটি কার্যকর শুল্কনীতি প্রণয়ণেরও প্রস্তাব ডিও লেটারে উল্লেখ করেন।

সকল তামাকপণ্যের কর বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার প্রদান করা সংসদ সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস, লালমনিরহাট-১ (হাতিবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোতাহার হোসেন, রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আছলাম হোসেন সওদাগর এবং সংরক্ষিত আসনের (৩২৩ মহিলা আসন-২৩) সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম।

অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া ডিও লেটারে তারা উল্লেখ করেন, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার লোকের অকাল মৃত্যু হয়। বর্তমানে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন যার মধ্যে ১৮ শতাংশ (১ কোটি ৯২ লক্ষ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন এবং ২০.৬ শতাংশ (২ কোটি ২০ লক্ষ) ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা, গুল, খৈনী, সাদাপাতা) ব্যবহার করেন। এই ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার নারীদের মধ্যে অনেক বেশি। বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের প্রায় ৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী তামাকপণ্য ব্যবহার করে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সংসদ সদস্যগণ আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে তামাকপণ্য খুবই সহজলভ্য। পৃথিবীর যেসব দেশে তামাকপণ্যের দাম অত্যন্ত সস্তা বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। এই তামাকপণ্য সহজলভ্য হওয়ায় তামাকের ব্যবহার কাক্সিক্ষত মাত্রায় কমছে না এবং তামাকজনিত মৃত্যু ও ক্ষয়-ক্ষতি বেড়েই চলছে। অথচ কার্যকরভাবে করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে তামাকের ব্যবহার হ্রাস পায় এবং একইসাথে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পায়।

তারা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর তামাকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘২০৪০ সাল নাগাদ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।

উপরে