চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন শুরু

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন শুরু

প্রকাশিত: ২৪-১২-২০১৬, সময়: ১৩:১২ |
Share This

পদ্মা টাইমস ডেস্ক : চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলনসমূহ আগামী ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
এ ছাড়া এলাকা বা অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত প্রকল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
পরিপত্রে মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া সরবরাহ ও সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত কোনো আইটেমের বরাদ্দ বাড়িয়ে না দেখানোর  পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মূল বাজেটে সংস্থান ছিল না, এমন কোনো সম্পদ সংগ্রহের জন্য সংশোধিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার  কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। সংশোধিত বাজেট প্রণয়নের জন্য অর্থ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের এই বাজেট সংশোধনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে অর্থ বিভাগ। এ সংক্রান্ত পরিপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলন অবশ্যই মূল বাজেটে প্রদর্শিত মোট ব্যয়সীমার মধ্যে সংকুলানযোগ্য হতে হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, মূল বাজেটে সংস্থান ছিল না এমন কোনো সম্পদ সংগ্রহের জন্য সংশোধিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিতে হবে। যেসব প্রকল্পে বরাদ্দ নাই সেসব প্রকল্প সংশোধিত রাখা যাবে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি ও উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রয়োজনে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে প্রদর্শিত মোট ব্যয়সীমার মধ্যে সংকুলান সাপেক্ষে ব্যয় কমানো-বাড়ানো  যাবে। তবে মূল বাজেটে প্রদর্শিত মোট উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে, তা কোনোভাবে অনুন্নয়ন বাজেটে স্থানান্তর করা যাবে না।
অর্থ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, অফিসার ও কর্মচারীদের বেতনভাতা খাতে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের তিন মাসের প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে সংশোধিত প্রাক্কলন প্রস্তুত করতে হবে। এ ধরনের প্রাক্কলন তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ করা হয়ে থাকলে সংশোধিত বাজেটে তার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে অথবা মন্ত্রণালয়/বিভাগ/ সংস্থার ওপর অর্পিত ক্ষমতা বলে কোনো অর্থ পুনসংযোজন করা হয়ে থাকলে সংশোধিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট কোডে অর্থের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে এডিপি কীভাবে সংশোধন করতে হবে তারও একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত  প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের কৌশলগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলোর আলোকে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। প্রয়োজনে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিতে হবে। মূল অংশে বরাদ্দবিহীন কোনো প্রকল্প রাখা যাবে না।
এতে বলা হয়েছে, একই সংস্থার আওতায় বাস্তবায়িতব্য একই উদ্দেশ্য বা প্রকৃতির একাধিক ক্ষুদ্র প্রকল্প প্রস্তাব পৃথকভাবে প্রণয়ন না করে একক প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব করতে হবে। সংশোধিত এডিপিতে দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত খাতগুলো গুরুত্ব পাবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা-উত্তর পুনর্বাসন সম্পর্কিত প্রকল্প এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পগুলোকে সংশোধিত বাজেটের এডিপিতে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। বৈদেশিক সাহায্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এমন সব প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

উপরে