সারাদেশে জুয়া বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

সারাদেশে জুয়া বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

প্রকাশিত: ১০-০২-২০২০, সময়: ১৭:০৭ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক :  রাজধানীর ঢাকা-উত্তরা ক্লাবসহ দেশের ৫ জেলার ১৩টি ক্লাবে অর্থের বিনিময়ে সবধরণের জুয়া খেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ ব্যাপারে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও জুয়া খেলার আইন সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন আদালত।

সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চ এ রায় দেন। রিট আবেদনকারী আইনজীবী রেদওয়ান আহমেদ একথা জানান। শুনানিতে ঢাকা ক্লাবের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আর রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার অংশ নেন।

১৩টি ক্লাব হল- ঢাকা, উত্তরা, গুলশান, ধানমন্ডি, বনানী, অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা লেডিস ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব, চিটাগাং, চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও খুলনা ক্লাব।

আইন অনুসরণ না করে এসব ক্লাবে জুয়া খেলা আয়োজনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সামিউল হক ও অ্যাডভোকেট রোকন উদ্দিন মো. ফারুক।

রিটে ঢাকা মেট্রোপলিন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮ এবং পাবলিক গেম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭ অনুযায়ী কোনো প্রকার জুয়া খেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে সংবিধানের ১৮ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারকে পতিতাবৃত্তি ও জুয়া খেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রাথমিক শুনানিতে ঢাকা ক্লাবসহ ১৩টি ক্লাবে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

পাশাপাশি জুয়াসহ অবৈধ ইনডোর গেম যেমন−কার্ড, ডাইস ও হাউজি খেলা অথবা এমন কোনও খেলা যাতে টাকা বা অন্য কোনও বিনিময় হয়ে থাকে, তা বন্ধের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছিলেন আদালত।

নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ক্লাবগুলোকে এই কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় পর গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকাসহ দেশের ১৩টি ক্লাবে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা বন্ধে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। পরে ওই দিন রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। পরবর্তীতে রায়ের দিন পিছিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি (রোববার) ধার্য করেন হাইকোর্ট।

Leave a comment

উপরে