আদালতে এমন ঘটনা নজিরবিহীন : প্রধান বিচারপতি

আদালতে এমন ঘটনা নজিরবিহীন : প্রধান বিচারপতি

প্রকাশিত: ০৫-১২-২০১৯, সময়: ১৭:১০ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। আমরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। আপনারা যে আচরণ করেছেন, আদালতে এমন আচরণ নজিরবিহীন।

খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল ও জামিন বিষয়ক শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেওয়ার পরও আদালতকক্ষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অবস্থান-হইচইয়ের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি দ্বিতীয়বার আদালতে বসে এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানিয়ে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে দাখিল হয়নি। এটিসহ দুটি প্রতিবেদন কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে সকালে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসবে। এই শুনানি চলাকালেই রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে হইচই শুরু হয়।

এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রধান বিচারপতিকে বলেন, ‘আমরা এখনও বসে আছি। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রোববার (৮ ডিসেম্বর) দিন নির্ধারণ করুন।’

জবাবে আদালত বলেন, ‘অর্ডার পাস হয়ে গেছে। এখানে বসে আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গতকাল (বুধবার) কী বলেছেন, তা আপনারা দেখুন।’ জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কে কী বলেছেন, আমরা তা দেখবো না। আমরা কাগজ না দেখে বিচার করবো না।’

এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘শেষ একটি কথা বলতে চাই।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। আর কোনও কথা শুনবো না।’

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতকে বলেন, ‘হাতজোড় করে বলছি, আগামী রোববার দিন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিন।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সবাই ((ছয় বিচারপতি) মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) শুনবো।’

এরপরও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা এজলাসে নিজেদের অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

তবে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে কার্য তালিকায় থাকা অন্য মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ফলে আর কোনও মামলার শুনানি করতে না পেরে বিচারপতিরা নির্ধারিত সময় পর (১টা ১৫ মিনিটে) এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।

উপরে