জয়পুরহাটে ২৫০ টাকার ডিডি’তে প্রতারণার অভিযোগে মামলা

জয়পুরহাটে ২৫০ টাকার ডিডি’তে প্রতারণার অভিযোগে মামলা

প্রকাশিত: 07-11-2019, সময়: 14:26 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটে সোনালী ব্যাংকের এক ডিমান্ড ড্রাফ্ট কে কেন্দ্র করে জেলা জজ আদালতের এক কর্মচারীর দায়ের করা মামলায় অবশেষে জামিন পেয়েছেন ৩ ব্যাংক কমকর্তা। বুধবার বিচারিক আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট গোলাম মাহফুজ তাদের জামিন দেন। মামলার জামিন প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, জয়পুরহাট সোনালী ব্যাংকের অফিস সহায়ক (কম্পিউটার) মিজানুর রহমান, অফিসার আইটি দিবা বেগম ও ব্যাংকের অফিসার মহিমা খাতুন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, জয়পুরহাটের জেলা ও দায়রা জজ জনাব এম.এ রব হাওলাদার খুলনা হইতে জয়পুরহাটে বদলীর কারণে ও রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্র্ডের অধীনে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষা বর্ষে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য তার পুত্র রিজওয়ান শাহরিয়ার মাহির রেজিষ্ট্রেশন করানোর জন্য জেলা ও দায়রা জজের জারিকারক মোস্তাফিজুর রহমান গত ২৩/১০/১৯ ইং তারিখে সোনালী ব্যাংক জয়পুরহাট শাখায় প্রয়োজনীয় তথ্য সহ ২৫০/- টাকা প্রদান করে তা সোনালী ব্যাংক, সেবা সফটওয়্যার এ জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকের অফিস সহায়ক (কম্পিউটার) মিজানুরকে অনুরোধ করে। তাতে সোনালী ব্যাংক জয়পুরহাট শাখার অফিসার (আইটি) দিবা বেগম ও অফিসার মহিমা খাতুন ইচ্ছাকৃত ও প্রতারণামুলক ভাবে সেবা সফটওয়্যার এ সেই টাকা জমা প্রদান না করে ডিমান্ড ড্রাফট কাটাকাটি করে সেবার সফটওয়্যার ব্যবহার না করে সেই ড্রাফটি তাকে প্রদান করেন। ড্রাফটি সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (সদর) এর বেঞ্জ সহকারী আকবর আলীর মাধ্যমে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডে পাঠালে কাটাকাটি থাকায় ও সংশ্লিষ্ট সোনালী সেবা সফটওয়্যার এ টাকা জমা প্রদান না করায় রেজিষ্ট্রেশন কাজে বাঁধা গ্রস্থ হয়। ইচ্ছাকৃত, প্রতারনামুলকভাবে সেবা প্রত্যাশীকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য ২৫০/- টাকার ড্রাফটে কাটাকাটি ও সেবা সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ড্রাফট না করার জন্য তাদের ৩ জনের নামে জারিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গত ৪ নভেম্বর জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা জয়পুরহাটের জুডিশিয়াল আমলী আদালত-১ এ জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবী মোকারম হোসেন জুয়েল চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটি মামলা করা হয়েছে তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে। ব্যাংকের কাছে যার বরাবরে ডিমান্ড ড্রাফ্ট চাওয়া হয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তারা সেই মোতাবেক ডিডি ইস্যু করেছে এখানে কর্মকর্তাদের কোন গাফিলতি বা অনিয়ম নেই সেকারনে আদালত আসামীদের জামিন দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই মামলার মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা এবং ব্যাংকে হেয় করা হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের অভিযুক্ত কর্মকর্তা অফিসার আইটি দিবা বেগম ও ব্যাংক কর্মকর্তা মহিমা খাতুন তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যাংকের নিয়ম মেনেই ডিডি ইস্যু করা হয়েছে। কোন অনিয়ম করা হয়নি। রীতিমত টাকা ব্যাংক ক্যাশে জমা করেই ডিডি দেওয়া হয়েছে। সামান্য কাটাকাটি হলেও তাতে স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে আর যে সেবা সফটওয়ারে জমা না করার অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা, বানোয়াট। ডিডি’র আবেদনে সেবা সফটওয়ারে টাকা জমা দেওয়ার কথা লিখিত বা মৌখিকভাবেও জানানো হয়নি। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলার মাধ্যমে তাদের সন্মানহানী করা হয়েছে বলে তারা দাবী করেন।

সোনালী ব্যাংক জয়পুরহাট সদর শাখার ব্যবস্থাপক জাহিদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, উক্ত মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমান সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন তা মিথা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, মামলাতে যে ২৩ অক্টোবর ডিডি’র আবেদনের কথা বলা হয়েছে সেই ২৩ অক্টোবর সোনালী ব্যাংক সদর শাখা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান কোন ডিডি আবেদন করেননি এমনকি তিনি ওই দিন ব্যাংকেই আসেননি। ওইদিন জয়পুরহাটের বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ এমএ রব হাওলাদার নিজেই ব্যাংকে এসে ডিমান্ড ড্রাফ্ট করার আবেদন করেছেন যাতে তার স্বাক্ষর রয়েছে এবং ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমানও আছে। জেলা জজ সাহেব তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বরাবর যে ডিডি’র আবেদন করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা ঠিক সেই ঠিকানা বরাবর ডিডি ইস্যু করেছেন। যদিও ডিডি’র টাকার অংকের যায়গায় সামান্য কাটাকাটি হয়েছে সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নমুনা স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন, ডিমান্ড ড্রাফটটি সঠিক ছিল। কোন জাল-জালিয়াতি বা প্রতারনামূলক ছিলনা। নিয়ম মেনেই তারা ডিডি ইস্যু করেছে। এই মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও আইনগতভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মামলার বিষয়টি সম্পূর্ণ জেলা জজ সাহেব নিজে দেখা শুনা করতেছেন এ বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে চান না।

এদিকে মাত্র আড়াইশ’ টাকার ডিমান্ড ড্রাফটে সামান্য কাটাকাটির ঘটনায় জেলা জজ আদালতের কর্মচারীর দ্বারা মামলা রুজু করায় আদালত পাড়াসহ সাধারন জনমনে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ইঠেছে সেই সাথে ব্যাংকগুলোতে এক ধরনের অসন্তোসের ও সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a comment

উপরে