রাজশাহীতে যুবলীগ নেতা হত্যায় বিএনপির ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

রাজশাহীতে যুবলীগ নেতা হত্যায় বিএনপির ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশিত: ০২-১০-২০১৯, সময়: ২১:৫০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সহিংসতায় যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এতে বিএনপি-জামাতের ৩৫ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযুক্তরা হলেন- আবু সুফিয়ান, অসীম রেজা, মো. জাহির, মোস্তাক আহমেদ ওরফে মেজরা, শরীফ দুলাল ওরফে সেতু, সাখাওয়াত হোসেন, মীর কাশেম ওরফে সাহেব, মো. লাভলু, ভকত আলী, আমিনুল ইসলাম, মো. শিহাব, মাসুম আক্তার স্বাধীন, মিনারুল ইসলাম ওরফে মিলন, বুলবুল, গোলাম দোস্তগীর রানা, মো. হিটলার, গিয়াস উদ্দিন, ওমর ফারুক জিহাদী, আবদুল মালেক পান্না, আকবর আলী, মুক্তার আলী, সোহরাব আলী, সাকিম উদ্দিন, মো. ডালিম, বয়েন উদ্দিন বনাব, গোলাম নবী তিতু, মো. সানাউল্লাহ, রনি আহমেদ, বাসির আহমেদ, ইউনুস আলী, আবদুল খালেক শাহ, মামুন হাসান মাইনাস, মো. টনিক, মো. মিলন ও মো. কালাম। গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের পালপুর ও ধরমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে তাদের বাড়ি।

তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই দেওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও জামাতের নেতাকর্মী। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। এ মামলার ধার্য্য দিন রয়েছে ২৭ অক্টোবর। মামলার বিচার কাজ শুরু করতে সেদিন অভিযোগ গঠন হতে পারে।

তিনি আরও জানান, মামলার এজাহারে ২২ জন আসামির নাম ছিলো। তবে তদন্তকালে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাই মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। নতুন ১৩ আসামির মধ্যে ৯ জন পলাতক আছেন। বাকি সব আসামিই হয় গ্রেপ্তার হয়ে অথবা আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেছেন। তবে পাঁচজন ছাড়া সবাই এখন জামিনে। পলাতক ৯ আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

নিহত ইসমাইল হোসেন দেওপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা পালপুর ভোটকেন্দ্র দখলে নিতে গেলে বাধা দিতে যান ইসমাইল। এ সময় তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বিজলা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

উপরে