সরকারি জমি দখল করলেই শাস্তি

সরকারি জমি দখল করলেই শাস্তি

প্রকাশিত: ০৮-০৮-২০১৯, সময়: ১২:১১ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সরকারি জমির লিজ-ইজারার মেয়াদ শেষ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হবে। নবায়ন না হলে ওই জমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

এর ব্যত্যয় হলে, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এমন বিধান রেখে দখলদারদের বিরুদ্ধে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি ও স্থাপনাদি (দখল পুনরুদ্ধার) আইন ২০১৯’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

তবে অবৈধ দখলদারদের শাস্তি আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন ভূমি বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, কোটি টাকার জমি দখল করার শাস্তি লাখ টাকার জরিমানা হলে এটি কোনো কার্যকর আইন হবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভূমি সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী।

তিনি নিজ দফতরে যুগান্তরকে বলেন, ‘সরকারি জমি কেউ অবৈধভাবে দখল করলে বিদ্যমান ‘গভর্নমেন্ট অ্যান্ড লোকাল অথরিটিজ (ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিংস) পজিশনস, ১৯৭০’-এর শাস্তির কোনো বিধান নেই।

শুধুমাত্র উচ্ছেদ করার খরচ নেয়া হয় দলখদারদের কাছ থেকে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না থাকায় উচ্ছেদের পর আবারও বেদখল হচ্ছে সরকারি জমি। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনটি নতুন করে করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি খসড়াও তৈরি হয়েছে।

সেখানে অবৈধ দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আরও বৈঠক করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করা হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বড় অপরাধে লঘুদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ভূমি সচিব বলেন, ‘বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন।

সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতেই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ভূমিবিষয়ক একাধিক গ্রন্থ প্রণেতা ও ভূমি আইন বিশেষজ্ঞ শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান বাজারে জমির দাম বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত আইনের শাস্তি নির্ধারণ করা সমীচীন হবে। কারণ কোটি কোটি টাকার সম্পদ দখল করে যদি মামলা মোকাদ্দমা শেষে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় তাহলে এ অপরাধ কমবে বলে মনে হয় না। দখলকৃত জমির পরিমান বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর সর্বনিু ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। তাহলেই আইনটির প্রয়োগে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমার বিশ্বাস।’

জানা গেছে, দেশে লাখ লাখ একর সরকারি জমি থাকলেও তার বিরাট একটি অংশ অবৈধ দখলে রয়েছে। ইজারা বা লিজ নেয়ার নামে নতুন করে দখল হচ্ছে সরকারি খাসজমি। ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও অনেকেই তা আর নবায়ন করছেন না। বছরের পর বছর ধরে তা দখলে রাখছেন। এভাবেই সরকারি জমি বেদখল হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়ন করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ভূমি, পরিবেশসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

ওই চিঠিতে তিনি বলেন, সরকারি খাসজমি, অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, ওয়াকফ সম্পত্তি ও দেবোত্তর সম্পত্তিসহ সরকারের অনেক জমি অবৈধ দখলে রয়েছে।

তাছাড়া নদীর তীরবর্তী ও নদীপাড়ের জমিও অবৈধ দখলে চলে গেছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট দখল হওয়া নদীর জমি সিএস অনুযায়ী পুনঃরুদ্ধার করতে হবে মর্মে নির্দেশনা দিয়েছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ‘অবৈধ জমি দখল’কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে শাস্তির বিধান থাকলেও বাংলাদেশে নেই। জমির অবৈধ দখল রোধ করতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন করতে হবে।

নিজ মন্ত্রণালয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চিঠিতে তিনি বলেন, বর্তমানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নদীর জমি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের কার্যক্রম চলছে।

উদ্ধারের পর আবারও বেদখল হচ্ছে। দেশে এ সংক্রান্ত আইন না থাকায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কিছুই করা যাচ্ছে না। সিভিল আইনে যা আছে তাতে একটি মামলা ৭০-৮০ বছর ধরে চলে।

এতে কোনো পক্ষই লাভবান হয় না বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশে প্রায় দুই কোটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে যার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ মামলাই ভূমিকেন্দ্রিক।

একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করে তা কার্যকর হলে অবৈধ দখল রোধ করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

Leave a comment

উপরে