‘প্রেমবিচ্ছেদেই আত্মহত্যা করেছিলেন মডেল রাউধা’

‘প্রেমবিচ্ছেদেই আত্মহত্যা করেছিলেন মডেল রাউধা’

প্রকাশিত: ২৯-০৫-২০১৯, সময়: ২০:৪১ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : বহুল আলোচিত রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ও মালদ্বীপের মডেলকন্যা রাওধা আতিফ আত্মহত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে রাজশাহীর মূখ্য মহানগর আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী পিবিআই এর এসআই সাইদুর রহমান আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আত্মহত্যা করেছিলেন রাওধা বলে চূড়ান্ত এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এসআই সাইদুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট রাওধা আত্মাহত্যার মামলাটি অধিক তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদলাত। এর পর থেকে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। মামলার দীর্ঘ তদন্তে মডেল কন্যা রাওধা আত্মহত্যা করেছেন বলেই তথ্য মেলেছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার কোনো আলামত মেলেনি বলেও উল্লেখ করেন চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এসআই সাইদুর বলেন, প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণেই আত্মহত্যা করেছেন রাওধা। তার শেষ গৃহীত কল ছিল তার বয়ফ্রেন্ড শাহী ঘনির। তার পাঠানো শেষ মেসেজ ছিল ‘ইউ কিলড মি। আই ফিল ডেড। আমার আর কিছুই থাকল না’।

এর আগে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ও মডেলকন্যা রাওধা আতিফের ভিসেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রতিবেদন চেয়ে পাঠায় মালদ্বীপ দূতাবাস। এর পর চাঞ্চল্যকর এই আত্মহননের মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই’র রাজশাহী কার্যালয় থেকে এসব কাগজপত্র পাঠানো হয়।

পিবিআই রাজশাহী কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, মডেলকন্যা রাওধা যে আত্মহত্যাই করেছিল সেটা পিবিআই এর তদন্তেও পাওয়া গেছে। তারা রাওধার আত্মহত্যার তদন্তকাজ শেষ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। পুলিশ ও সিআইডিসহ অন্যান্য সংস্থার তদন্ত কার্যক্রম শেষে পঞ্চমবারের মত রাওধা মুত্যুর তদন্ত করে পিবিআই।

রাওধা রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেলের ছাত্রী হোস্টেল থেকে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর ঘটনায় শাহ মখদুম থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত করে। দুইবার ময়নাতদন্ত করার হয় রাওধার লাশ। প্রতিটি সংস্থার তদন্তেই তার আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে রাওধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ বারবারই এই আত্মহত্যার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রাওধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

উপরে