দুই জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান

দুই জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান

প্রকাশিত: ১৩-০১-২০২০, সময়: ১৩:৩০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেক, বদলগাছী : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার উত্তর রাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮০জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র দুই জন শিক্ষক দিয়ে। এতে করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত উত্তর রাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর এই বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রায় ৬ কি.মি. দূরে অবস্থিত। দাপ্তরিক কাজে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গেলে ওইদিন স্কুলের সহকারী শিক্ষক ইউনুছ আলীকে একাই শিশু শ্রেণিসহ ছয়টি শ্রেণির পাঠদান করাতে হয়।

রবিবার দুপুর ১২টায় উত্তর রাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক নেই। দুটি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নিচ্ছেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জিল্লুর রহমান মণ্ডল।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমান মণ্ডল জানান, বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে মোট ৪জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের পদটি খালি রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী। বাকি ৩জনের মধ্যে জাহাঙ্গির আলম ও রেশমী সুলতানা পিটিআই ট্রেনিং-এ রয়েছেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষক শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮০জন শিক্ষার্থীর পাঠদান করছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে খুবই সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক প্রদানের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বার বার জানানো হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীর আজকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে মিটিং রয়েছে। আর সহকারী শিক্ষক ইউনুছ আলী ৫দিনের ট্রেনিং-এ রয়েছেন। একারণে বিদ্যালয়ে কেউ নেই। আমাকেই ক্লাস নিতে হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির নিপু ও শান্তসহ একাধীক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকের অভাবে তাদের পড়ালেখার খুব ক্ষতি হচ্ছে।

ঐ বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বললে তাঁরা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে উপজেলা কার্যালয়ে গেলে শিশু শ্রেণিসহ ছয়টি ক্লাস সহকারী শিক্ষক ইউনুছ আলীকে একা সামলাতে হয়। যে শ্রেণিতে তিনি থাকেন সেখানে ক্লাস হয়, বাঁকি গুলোতে চিৎকার চেঁচামেচিতে সময় পার হয়ে যায়। আর এর ফলে শিক্ষককেও হিমশিম খেতে হয়, আবার ছাত্র-ছাত্রীদেরও পড়ালেখার ব্যাপক ক্ষতি হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী ক্লাসে এসে ক্লাস না নিয়ে ক্লাসে বসে মোবাইলে লুডু খেলেন, তাস খেলেন, চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমান। স্কুলে এসে ১২টা বাজলেই স্কুল থেকে চলে যান।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী বলেন, যেসব সমস্যা আছে সেগুলো আর হবে না। আর শিক্ষক সংকটের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান বলেন, বেশ কয়েকটি স্কুলে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিস বরাবর দরখাস্ত দিয়ে শিক্ষক সংকটের সমাধান করা হবে।

চার জন শিক্ষকের মধ্যে থেকে ২জন শিক্ষককে কিভাবে একই সময়ে একটি স্কুল থেকে পিটিআই ট্রেনিংএ পাঠালেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের উপর থেকে বলা আছে স্কুলের পাঠদানের যে অবস্থায় হক সেদিকে না দেখে শিক্ষকদের আগে পিটিআই ট্রেনিংএ পাঠাতে হবে।

Leave a comment

উপরে