‘বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির নামে নোংরামি সরকার বরদাশত করবে না’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির নামে নোংরামি সরকার বরদাশত করবে না’

প্রকাশিত: ৩০-১১-২০১৯, সময়: ২২:২৬ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সম্প্রতি দাবি আদায়ের নামে তথাকথিত আন্দোলন করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন জিম্মি করে ফেলছে একটি পক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা রাজনীতির নামে নোংরামিতে জড়িয়ে পড়তে দেখছি। রাজনীতির নামে নোংরামি সরকার বরদাশত করবে না। তাই আমি বলব- শিক্ষকরা রাজনীতির নামে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে না।’ শনিবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. দীপ মনি ‘গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা, দক্ষতা অর্জন করা ও আত্মবিশ্বাসী হওয়া। যে শিক্ষা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করতে পারে না সমস্যা সংকট মোকাবেলায় দক্ষতা দান করে না, চিন্তা করতে শেখায় না, ভাবতে হবে সেখানে শিক্ষার উদ্দেশ্য সফল হয়নি। গ্রাজুয়েটদের বর্তমানের কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আমরা দুই ধরনের কথা শুনে থাকি। যারা চাকরি দেন তারা বলেন- যোগ্য গ্রাজুয়েট পান না। আর যারা চাকরি খোঁজেন, তারা বলেন- দেশে চাকরির ক্ষেত্র কম। এ থেকে একটি বিষয় প্রতীয়মান যে- আমরা যোগ্য গ্রাজুয়েট গড়ে তুলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। গবেষণা ছাড়া কোন বিশ্ববিদ্যালয় মূলত সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। যা মোটেও কাম্য নয়। নিত্য নতুন গবেষণা দেশ এগিয়ে যাবে, মানসম্মমত শিক্ষা নিশ্চিত হবে। এটিই আমাদের সকলের কাম্য। উচ্চ শিক্ষাকে আরও গতিশীল করার জন্যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা কার্যক্রমে আরও মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।’

‘আমাদের শিক্ষানীতির মূল আদর্শ হলো দেশের নতুন প্রজন্মকে মানবিকবোধ সম্পন্ন দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার যে পরিবেশ আমাদের কাঙ্খিত আদর্শ পূরণের জন্য খুবই অনুকূল একটি পরিবেশ। এ পরিবেশে লালিত পালিত স্নাতকগণ ভবিষ্যতে সোনার বাংলাদেশ গঠনে সক্ষমতার পরিচয় দেবে।’

বাংলাদেশের অর্থনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে কর্ম পরিকল্পনা প্রনয়ণ করেছে। এর রূপকল্প অনুযায়ী গৃহিত কর্মসূচি ফলে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছিল। এছাড়া টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রাও অর্জন করতে পারবো। এছাড়া মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে এক্ষেত্রেও রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সমাবর্তন বক্তা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যাসাগর বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী, রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া।

উপরে