শিক্ষার্থীকে জখম করে ‘লাপাত্তা’ রাবির সেই দুই ছাত্রলীগ কর্মী

শিক্ষার্থীকে জখম করে ‘লাপাত্তা’ রাবির সেই দুই ছাত্রলীগ কর্মী

প্রকাশিত: 16-11-2019, সময়: 16:16 |
Share This

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সোহরাব মিয়া নামের এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথায় জখম ও হাত ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্রলীগের দুই কর্মী আসিফ ও হুমায়ুন কবির নাহিদ। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকেই ফোন বন্ধ রেখে ‘গা ঢাকা’ দিয়েছেন এই দুই কর্মী। এই ঘটনায় তাদের বক্তব্য নিতে একাধিকবার তাদের হলে ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের ব্যাপারে জানতে হলের প্রাধ্যক্ষ জুলকার নায়েনকে একাধিকার ফোন করা হলে তিনিও ফোন ধরেননি।

এদিকে এর প্রতিবাদ ও জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে শনিবার বেলা ১১টা থেকে প্রায় ৪ ঘন্টা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এসময় ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাবি আদায় না হলে শিক্ষার্থীরা লাগাতার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেয়।

ফিন্যান্স বিভাগের আহত অবস্থায় সোহরাব বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে মতিহার থানা পুলিশ জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীরা জানায়, ছাত্রলীগ কর্মী হুমায়ুন কবির নাহিদ ও আসিফের নেতৃত্বে সোহরাবসহ ফিনান্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জোহা হলের ২৫৪ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে তারা দুজন মিলে সোহরাবকে রড দিয়ে মাথা ও হাতে এলোপাথারি পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে সোহরাব রক্তাক্ত হলে তারা মারধর বন্ধ করে। পরে সোহরাবের বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ও পরে রামেকে ভর্তি করা হয়।

সোহরাবের সহপাঠীরা জানান, তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপর ও নিচে দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। ডাক্তার জানিয়েছে মাথার তিন জায়গায় মোট ১৫টি সেলাই দেয়া হয়েছে। তার মাথা থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। আপাতত এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে তার সিটিস্ক্যান করানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহপাঠী জানান, গত কয়েকদিন থেকেই আসিক লাক সোহরাব নানানভাবে অত্যাচার করে আসছে। দুইদিন আগেও আসিফ লাক সোহরাবকে ডেকে নিয়ে চড় থাপ্পর মেরেছিল।

এদিকে মারধরের ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসিফ ও নাহিদ হল ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। তাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ কর্মীর ছাত্রত্ব বাতিল ও গ্রেফতারসহ ৩ দফা দাবি জানায়। এসময় রাস্তার দুই পাশে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে উপ-উপাচার্য, ছাত্রউপদেষ্টা ও প্রক্টোরিয়াল বডিসহ শিক্ষকরা কয়েক দফা চেষ্টা করেন। পরে ফিন্যান্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আবু সাদেক মো. কামরুজ্জামান শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ^াস দিলে শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে দেন।

এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। জড়িতদের আজকের মধ্যেই গ্রেফতার করা হবে। তবে ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়টি সময় সাপেক্ষ।

এই ঘটনায় জোহা হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান। রাবি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সুপারিশসহ এই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আবরার হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আমাদের সহপাঠীকে হলে ডেকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিস্কার ও গ্রেফতার চাই। ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাবি আদায় না হলে আমরা লাগাতার ধর্মঘট করব।

জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জড়িতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a comment

উপরে