রাজশাহী পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের টর্চার সেল (ভিডিওসহ)

রাজশাহী পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের টর্চার সেল (ভিডিওসহ)

প্রকাশিত: 03-11-2019, সময়: 19:03 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুকুরের ফেলে দেয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। রোববার এ কমিটি গঠন করা হয়। বিকেলে কমিটির তিন সদস্য রাজশাহী পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিসিটিভির ফুটেজ দেখেন।

এ সময় তদন্ত দল ক্যাম্পাসে একটি টর্চার সেলের সন্ধান পায়। পুকুরের পশ্চিম পাশের ভবনের ১১১৯ নম্বর কক্ষে এ টর্চার সেল থেকে লোহার রড, পাত ও পাইপ পাওয়া যায়। পরে সেগুলো পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়। এ সময় তদন্ত কমিটির কাছে কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্র জানায়, ওই টর্চার সেলটি ছাত্রলীগের। ওই কক্ষের সামনে ছাত্রলীগের টেন্ট। ছাত্রলীগের নেতাদের কথা না সুনলে সেখানে নিয়ে গিয়ে টর্চার করা হতো।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব ও পরিচালাক (পিআইডব্লিউ) এসএম ফেরদৌস আলমকে। এছাড়াও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালাক (কারিকুলাম) ড. মো. নুরুল ইসলাম কমিটির সদস্য এবং রাজশাহী মহিলা পলিকেনিটক ইনিস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওমর ফারুককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহবায়ক এসএম ফেরদৌস আলম বলেন, রোববার সকালে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বিকেলে তারা দুইজন ঢাকা থেকে বিমানে রাজশাহী আসেন। আর কমিটির অপর সদস্য রাজশাহীতে ছিলেন। রাজশাহী পৌঁছেই তারা তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানান তিনি।

টর্চার সেল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌস আলম বলেন, সব বিষয় নিয়ে তারা তদন্ত করছেন। তারা অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এখনই যদি তদন্তের সব কথা বলে দিই তা হলে তদন্ত থাকে না। তবে সব বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনে থাকবে বলে জানান তিনি।

অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ওই কক্ষটি জোর করে নিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা ব্যবহার করতো। সেখানে বসে তারা বিভিন্ন সময় আড্ডা বা মিটিং করতো। তবে শুনেছি তারা ওই কক্ষটি টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করতো। তবে এ নিয়ে কেউ কোনদিন তার কাছে অভিযোগ দেয়নি। ছাত্রলীগের ছেলেদের বিরুদ্ধে শিক্ষক বা ছাত্র সবাই অভিযোগ দিতে ভয় পায়।

Leave a comment

উপরে