বুয়েট ভিসির আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় শিক্ষার্থীরা

বুয়েট ভিসির আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ০৮-১০-২০১৯, সময়: ১৯:০০ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বুয়েট ভিসির আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা ভিসির বক্তব্যে একমত হতে না পেরে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। এর আগে ৩৬ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন বুয়েট ভিসি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও কয়েকজন বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হলেই তাকে ঘিরে ধরে শিক্ষার্থীরা। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমি সারাদিন মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, মিটিং করেছি। এগুলো না করলে দাবিগুলোর সমাধান হবে কীভাবে। সব তো আমার হাতে নেই। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আলাদা ডেকে নিয়ে কথা বলার প্রস্তাব দিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এসময় তারা আট দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলো হলো- খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে। দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তা উনাকে আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে সকলের সামনে জবাবদিহি করতে হবে। আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগ এর নামে এবং ভিন্নমত ধমানোর নামে নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১অক্টোবর , ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। সাংগঠনিকভাবে বুয়েট থেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় বুয়েটের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।

Leave a comment

উপরে