রাজশাহীর দুই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি ফি আদায়

রাজশাহীর দুই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি ফি আদায়

প্রকাশিত: ১৫-০৯-২০১৯, সময়: ১০:৫৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর দুইটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ফি। যা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। দুইবছর আগে রাজশাহী নগরের এই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হয়েছে। এগুলো হলো রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ । এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি বলে জানা গেছে।

তবে জাতীয়করণ (সরকারি) হওয়া আলোচিত দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের দাবি, তাদের প্রতিষ্ঠান সরকারি ঘোষিত হলেও এখনও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে দেয়া হচ্ছে না। এ জন্যই তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মতোই ফি আদায় অব্যাহত রেখেছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ১২টি বেসরকারি উচ্চমাধ্যমিক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে জাতীয়করণ বা সরকারি করা হয়। এর মধ্যে রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে। জাতীয়করণ ঘোষণার পর থেকেই এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব কাগজপত্র সরকারি নিয়মেই সম্পাদিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী অভিভাবকরা জানান, নগরীর সরকারি স্কুলগুলোতে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ৬ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। সরকারি স্কুলে সেশন ফি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। সেখানে জাতীয়করণ হওয়া রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাসিক বেতন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। একই ভাবে সেশন চার্জ ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬০০ টাকা, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৫৫০ টাকা এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৬০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরে টিফিন না দিলেও টিফিন, কম্পিউটার ল্যাব ও অন্যান্য মিলে আরও ১২৫ টাকা করে মাসে মাসে দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন শ্রেণিতেও একই রকম ফি আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া বছর বছর ভর্তিতেও মোটা অংকের টাকা নেয়া হচ্ছে।

প্রায় দুই বছর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারি হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের ওপর এই ফিয়ের বোঝা চাপিয়ে তা আদায় করা নিয়ে অনেক অভিভাবকই ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, ভর্তি থেকে সবকিছুই সরকারি নিয়মে চলছে, অথচ ফি আদায় হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো। ফলে অভিভাবকদের নাভিশ্বাস উঠছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয়করণ হওয়ার পর এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ আছে সরকারি নির্দেশে। তবে বেতন-ভাতা মঞ্জুর হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয়করণের দিন থেকেই সব বকেয়া বেতন-ভাতা এক সঙ্গেই পাবেন। তবে এজন্য বেসরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা আদায় করাটা নৈতিকভাবে উচিত নয় বলে মনে করেন অনেক ভুক্তভোগী অভিভাবক। কারণ এখন আদায় করা টাকা অভিভাবকদের তো আর ফেরত দেয়া হবে না।

রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আকবর হোসেন জানান, আসলে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ জাতীয়করণ হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি এখনও সরকারি মঞ্জুরি পায়নি। প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে আগের নিয়মেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফি আদায় করা হচ্ছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাইফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সরকারি যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে তাতে আগের নিয়মেই চলার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা বকেয়াসহ সব বেতন-ভাতা একসঙ্গে পেলে সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এখন আদায় করা অতিরিক্ত টাকা কি ফেরত দেয়া হবে- এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষদ্বয় বলেন, এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর রাজশাহীর উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস বলেন, একজন শিক্ষক-কর্মচারীকে এক জায়গা থেকেই বেতন-ভাতা নিতে হবে। যারা এখন প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন সেই টাকা তাদের সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। এটাই সরকারি নিয়ম। সূত্র- যুগান্তর

উপরে