রাবিতে গবেষণা খাতে নানামুখী সাফল্য

রাবিতে গবেষণা খাতে নানামুখী সাফল্য

প্রকাশিত: ০৪-০৯-২০১৯, সময়: ১৫:০৪ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : অপ্রতুল বরাদ্দের পরও গবেষণা খাতে নানামূখী সাফল্যের মুখ দেখছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশে^ প্রথম সাপের বিষের ডাটাবেজ তৈরি, সজনে পাতার পাউডার, পলিথিন থেকে তেল গ্যাস কার্বন উৎপাদন প্ল্যান্ট, শস্যের ক্ষতিকারক ক্যাডমিয়াম প্রশমন, খাদ্য শস্যের কয়েকটি জাত উদ্ভাবনসহ সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় সাফল্য পেয়েছে বিশ^বিদ্যালয়টি। ফলে আন্তর্র্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বিশ^বিদ্যালয়টি স্থান করে নিচ্ছে উপরের দিকে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন অর্থ বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে আরও বেশি গবেষণা সাফল্য পাওয়া যাবে।

বিশ^বিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়ে স্পেনের ‘সিমাগো ল্যাব’ ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্কপাস’ পরিচালিত জরিপে গবেষণা ক্যাটাগরিতে সম্প্রতি দেশের বিশ^বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম ও আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে ৪১৬তম জায়গা দখল করে নেয় বিশ^বিদ্যালয়টি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশে^ প্রথম সাপের বিষের ডাটাবেজ তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু রেজা। তাঁর ডাটাবেজে দেশের অভ্যন্তরে পাওয়া মোট ৮৯টি সাপের জীবনবৃত্তান্তের বিস্তারিত তথ্য স্থান পেয়েছে। কোন সাপের কামড়ে কী ধরণের ভেনোম ব্যবহার করা যাবে, কত ধরনের ভেনোম আছে তার সবই আছে সেখানে। এছাড়াও এখানে প্রায় ৩ শতাধিক সাপের ভেনোমের প্রোটিন বিশ্লেষণ করে একটা কাঠামো দেখানো হয়েছে।

দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সজনে পাতার পাউডার উদ্ভাবন করেছেন ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম মনজুর হোসেন। এই পাউডারটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা, বাতের ব্যথা, হার্ট ডিজিস, অ্যালঝেইমারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কাজ করবে। এই উদ্ভাবনটির পেটেন্ট নিতে জাপান সরকার কাজ করছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও অধ্যাপক মনজুর রাবি-১, ২, ৩ নামে তিনটি স্ট্রবেরি জাত, রোগ মুক্ত আলু বীজ উদ্ভাবন করেন।

ধান ও গমের শস্যে থাকা ক্ষতিকর ক্যাডমিয়াম কমানোর প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করে সাফল্য পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দুইটি গবেষণা দল। ‘সোনার বাংলা’ জাতের ধানে ক্যাডমিয়াম দূরীকরণ এবং প্লাজমা কৌশল প্রয়োগ করে গমে ক্যাডমিয়াম কমানোর সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গবেষণা দল দুটির নেতৃত্ব দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আহমদ হুমায়ন কবির।

পাইরোলাইসিস পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কার্বন কালো উৎপাদনের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে বিশ^বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। প্ল্যান্টটি তৈরি করেছে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল কাফীর নেতৃত্বাধীন গবেষক দল। তাদের উৎপাদিত এই ফার্নেস তেল শিল্প কল-কারখানায় জ্বালানি উপকরণ হিসেবে এবং খনন যন্ত্র, রাস্তা বেলন বা লোডিং মেশিনের মতো নিম্নগতির ইঞ্জিনগুলোতে পরিমার্জিত ডিজেল ও পেট্রল ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন তারা।

এছাড়াও সামাজিক গবেষণায় ফোকলোর মডেল উদ্ভাবন করেছেন ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান। চলতি বছর তার এই মডেল সম্বলিত একটি পুস্তক প্রকাশ করে পশ্চিম বঙ্গ সরকার। এদিকে বিশ^বিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদসহ আরও কয়েকটি বিভাগে বেশ কিছু গবেষণার কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, সম্প্রতি রাবিতে গবেষণার উৎসাহ বেড়েছে। গবেষণায় বরাদ্দও বেড়েছে ৬ গুণ। এরকম অব্যাহত গবেষণা বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক।

Leave a comment

উপরে