রাবিতে শিক্ষার্থীকে চোখ বেঁধে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

রাবিতে শিক্ষার্থীকে চোখ বেঁধে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৫-০৮-২০১৯, সময়: ২৩:৪২ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) মতিহার হলের এক শিক্ষার্থীকে হলে উঠিয়ে তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে চোখ বেঁধে মারধর ও ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে মোবাইল ফোন ও সোনার চেইন হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় রোবার মতিহার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম তারেক আহমেদ খান শান্ত। সে শাখা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আনাস আহমেদ। তিনি ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও মতিহার হলের প্রথম ব্লকের ২১২ নাম্বার কক্ষে থাকেন।

মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থী জানান, ‘কিছুদিন ধরে শান্ত আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে আসছে কিন্তু আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় শনিবার দুপুরে আমাকে ২২৩ নম্বর কক্ষে ডেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে খারাপ ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে আমার চোখ বেঁধে কয়েকজন মিলে আমাকে মারতে থাকে। এসময় আমার গলার চেইন এবং কাছে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় নিয়ে চলে যায়। পরে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে আমার গলায় আঘাত করে। তখন আমার চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে কয়েকজন এসে আমাকে চোখ খুলে দেয়। তারপর আমি আমার বিভাগের বড় ভাইয়ের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে আসে।’

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক আহমেদ খান শান্ত বলেন, মতিহার হলের ডাইনিং ম্যানেজারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিল। সেই অভিযোগ ছাত্রলীগের সভাপতির কাছে জানালে তিনি শাসন করতে বলেছেন। তাই রুমে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছি। তবে টাকা দাবি বা সোনার চেইন ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় বিষয়টি মিথ্যা। ছুরি দিয়ে হত্যাচেষ্টা মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমি একটি মাধ্যমে শুনেছি কিন্তু মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থী আমাকে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি বা লিখিত কোনো অভিযোগও দেয়নি। আর বিষয়টি শোনার পর আমি হল প্রাধ্যক্ষকে ফোন করে জানিয়েছে সুষ্টু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

মতিহার হলের হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুসতাক আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে কোন পক্ষই কোনো অভিযোগ দেয়নি। আমি এসআই আব্দুল মোমিন ও বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টরের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মতিহার হল ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে আনা বেয়াদবি করার কারণে একটু বকাঝকা করছে আর কি। তাছাড়া এটা কোন বিষয় না। তবে ফোন, চেইন নেয়া বা চাঁদাদাবির বিষয়টি আমি জানি না।

উপরে