ঈদে রাবিতে ১৬ দিন হল বন্ধের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

ঈদে রাবিতে ১৬ দিন হল বন্ধের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশিত: ০৪-০৮-২০১৯, সময়: ১৬:১১ |
Share This

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাবি : পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলো ৮ অগাস্ট থেকে ২৪ অগাস্ট পর্যন্ত ১৬ দিন হল বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। এর আগে ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে টানা ২৫ দিন আবাসিক হলগুলো বন্ধ রাখা হয়। প্রাধ্যক্ষ পরিষদের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগসহ বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার জানান, ইদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ^বিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা আগামী ৭ অগাস্ট থেকে ২২ অগাস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ৮ থেকে ২২ অগাস্ট পর্যন্ত অফিসসমূহ বন্ধ থাকবে। ৮ অগাস্ট থেকে ২৪ অগাস্ট পর্যন্ত হল বন্ধ রাখার সুপারিশ করে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। তিনি বলেন, প্রাধ্যক্ষ পরিষদ যে সুপারিশ করে সাধারণত তা বহাল থাকে।

প্রাধ্যক্ষ পরিষদের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, আর কোথাও ঈদে এত দীর্ঘ সময় আবাসিক হল বন্ধ রাখার নজির নেই। সেখানে দ্বিতীয় প্রাচীন বিদ্যাপীঠে কোনো গন্ডগোল ছাড়াই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রাধ্যক্ষ পরিষদ নিজেদের সুবিধার জন্য ১৬ দিন হল বন্ধ রাখা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই টিউশন করে লেখাপড়ার খরচ বহন করেন। দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় তারা পড়েছেন বিপাকে। এছাড়াও চাকরির প্রস্তুতি যারা নিচ্ছেন তাদেরও পড়াশোনায় ব্যঘাত ঘটবে। হল বন্ধ কমানোর জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

শহীদ হবিবুর রহমান হলে আবাসিক শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল হাসান বলেন, শেষ বর্ষে এসে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্যও প্রস্তুতি নিতে হয়। টানা ১৬ দিন হলের বাইরে থাকলে পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হবে।

বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফয়েজ নূর সারা বছরই হল খোলা রাখার দাবি জানান।

রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আতিয়া তাহমিদা বলেন, হলে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষর্থীরা একসাথে থাকে। শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য এতদিন হল বন্ধ রাখা হয়, অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এত দীর্ঘ ছুটি কখনোই রাখা হয়না। এটি উচিৎ নয়।

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আবদুল মজিদ অন্তর জানান, অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই এতদিন হল বন্ধ রাখার নজির নেই। শিক্ষার্থীদের মতামতকে পাত্তা না দিয়ে রাবিতে এত দিন হল বন্ধ রাখা হচ্ছে।

রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, আমরাও চাই যে এতদিন হল বন্ধ না থাকুক। আমরা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করব যেন তারা হল বন্ধ কমিয়ে আনে।

রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ছাত্রলীগের পক্ষে আমরাও চাই যে হলের ছুটিটা কমানো হয়। শিক্ষার্থীরা যদি চায় তবে তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।

জানতে চাইলে জনসংযোগ দফতর প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষকুমার কর্মকার বলেন, প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সুপারিশের কাগজ হাতে এসে পৌঁছায়নি। আগে হাতে আসুক কাগজটা, তারপর দেখছি কী হয়।

Leave a comment

উপরে