রাবি ছাত্রীর ফেসবুকে ‘ভয়স্কর’ স্ট্যাটাস, ক্যাম্পাসে তোলপাড়

রাবি ছাত্রীর ফেসবুকে ‘ভয়স্কর’ স্ট্যাটাস, ক্যাম্পাসে তোলপাড়

প্রকাশিত: ০৩-০৮-২০১৯, সময়: ১৫:৩৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রীর ফেসবুকে একটি ‘ভয়ঙ্কর’ স্ট্যাটাস নিয়ে ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়। শনিবার দুপুরে একটি ছবিসহ আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে এ স্ট্যাটাস দেয়ার পর ওই ছাত্রীর সঙ্গে রাবির অনেকেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। পরে ওই আইডি থেকে স্ট্যাটাস সরিয়ে আরেকটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়।

শনিবার বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে ওই ছাত্রীর ফেসবুকে সর্বশেষ স্ট্যাটাস দেয়া হয়। যাতে লেখা হয়েছে, ‘‘আমার আইডিটা হ্যাক করা হয়েছিল। ভুলভ্রান্তির জন্যে আমি মাফ চাচ্ছি। আমি আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছি। আপনারাও দোয়া রাখবেন।’’

এর আগে দুপুর ১টার পর ভাইরাল হওয়া স্ট্যাটাসে লিখা রয়েছে, ‘‘আমি …। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে মাস্টার্স করতেছি। বাসা দিনাজপুর। একজনকে ভালোবাসতাম। সে অস্বীকার করেছে। আমাকে জোর করে ড্রাগ এডিক্ট, বেশ্যা, মাগীর দালাল বানানো হয়েছে। আমার প্রেমিক আমাকে অস্বীকার করেছে। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমার অসুস্থ্য গার্ডিয়ানকে অপমান করেছেন। আমার প্রেমিকও করেছেন। বিয়ের মুলো ঝুলিয়ে দুই বছর থেকেছে আমার সাথে। অনেকের সাথে শোয়াইছেও। অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা স্টেটমেন্ট নিয়েছে আমাকে অপদস্ত আর নোংরা প্রুফ করার জন্য। আমার বেঁচে থাকা সম্ভাব হচ্ছে না। ভালো থাকবেন আপনারা সব সভ্য মানুষরা। বিনা অপরাধে অনেক শাস্তি পেয়েছি। আর বেঁচে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। অনেক কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে। আপনাদের ঘৃণা আর ভালোবাসা নিয়ে আমি চলে যাচ্ছি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’’

এদিকে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস ভাইরাল হওয়ার পর ওই ছাত্রীর সঙ্গে রাবির অনেকেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সে সুস্থ্য আছেন এবং তিনি ঢাকার আশুলিয়া তার বোনের বাড়িতে আছেন। তিনি কিছুদিন ধরে মানুষিক সমস্যায় ভুগছেন বলে তার পরিবার থেকে জানানো হয়েছে।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, “বিষয়টি আমি জানতাম না। খোঁজ নিয়ে দেখে অবশ্যই তার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, “ওই শিক্ষার্থী কয়েকদিন আগে পুলিশের হাতে আটক হয়। এরপর আমি ও সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস মিলে তার সঙ্গে কথা বলেছি। আগেও আমরা তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছি। কাউন্সেলিং করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। একজন শিক্ষার্থী তো খারাপ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় না। আর আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে বলাই যায় ও অনেক মেধাবী। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি ওর স্বাভাবিক জীবন বাধাগ্রস্থ করেছে। ও ব্যক্তিজীবনে হতাশ। তারপরও আমরা ওর পরিবারকে ডেকে একটা ভালো ব্যবস্থা নিব।”

উপরে