সোনামসজিদ বন্দরে ২৫ দিন থেকে পাথর আমদানি বন্ধ

সোনামসজিদ বন্দরে ২৫ দিন থেকে পাথর আমদানি বন্ধ

প্রকাশিত: ০৯-১২-২০১৯, সময়: ১৬:১৪ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ : গত ২৫ দিন থেকে সোনামসজিদ বন্দরে পাথর আমদানী করছে না পাথর আমদানী কারকেরা। পাথর আমদানী বন্ধের বিষয় রোববার সন্ধ্যায় সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ সংবাদ সম্মেলন করেছে। সম্মেলনে আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাথর আমদানির ক্ষেত্রে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের অতিরিক্ত মাশুল (ট্যারিফ) বৃদ্ধির কারণে পাথর আমদানিকারকেরা পাথর আমদানি করছেনা।

আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, ২০০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় পাথরভর্তি প্রতি ট্রাকে ৭শ’ ৮৩ টাকা হিসেবে পানামা পোর্টে মাশুল পরিশোধ সাপেক্ষে ব্যবসা অব্যহত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কিন্তু পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্তের পরিবর্তে প্রতি ট্রাকে ৭শ’ ৮৩ টাকার স্থলে ৭/৮ হাজার টাকা ট্যারিফ ধার্য করায় পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছে। ফলে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় স্থলবন্দরে প্রায় ৪/৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে স্থলবন্দরে রাজস্ব আয়ও কমে যাচ্ছে।

জানা গেছে, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ গত ১৪ নভেম্বরে সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৭ নভেম্বর থেকে আমদানীকৃত পাথরের টন প্রতি ১৫২ টাকা টোল ও ফি দিতে হবে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে। এই ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি না দেওয়ার প্রতিবাদেই আমদানী কারকেরা ভারত থেকে পাথর আমদানী বন্ধ রেখেছেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেনি আমদানি-রপ্তানিকারকের কর্মকর্তারা। ভারতের পাকুড়া থেকে সোনামসজিদ বন্দরের দূরন্ত প্রায় ৫৫ কিমি। হিলি বন্দর ২০৫-২১০ কিমি ও ভোমরা বন্দর থেকে প্রায় ২৪০-২৫০ কিমি দূরন্ত। ওই সব বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পাথরের ট্যারিফ অনুযায়ী বন্দর মাশুল পরিশোধ করে ব্যবসায় লাভ করছে আমদানিকারকেরা।

কিন্তু সোনামসজিদ বন্দরের দূরন্ত কম হওয়ার সত্ত্বেও সোনামসজিদের পাথর আমদানিকারকেরা লাভ করতে পারছে না কেন? জানতে চাইলে সদত্তর দিতে পারেননি তারা। ভারতের সুস্থানী থেকে মহদিপুর স্থলবন্দরের দূরন্ত মাত্র ১৫ কিমি। অথচ ট্রাক ভাড়া ৪০ হাজার রুপি। এখন পর্যন্ত এর প্রতিবাদ করেছেন কিনা? জবাবে সভাপতি জানায়, এটা ভারতের একান্ত বিষয়। ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দরের পাথর রপ্তানিকারকেরা দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধি ও আবর্জনা মিশানো পাথর রপ্তানির বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করছেন না কেন? জবাবে জানায়, ইতোপূর্বে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভারতের ফিটনেসবিহীন লক্কড়-যক্কড় ট্রাকে পাথর পাঠানো হচ্ছে। অথচ আপনারা এখন পর্যন্ত কোন প্রতিবাদ করেছেন কি? এতে সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

পাথর আমদানিকারকদের সংবাদ সম্মেলনের বিষয় নিয়ে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বেলাল হোসেন জানান, ট্যারিফ সংযোজন পানামার কোন নিজস্ব বিষয় নয়। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ট্যারিফ সংযোজন করা হয়েছে। অন্যান্য বন্দরে একই নিয়মে ট্যারিফ সংযোজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন- ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য ট্যারিফ ড. শেখ আলমগীর হোসেন এক আলোচনার পর ট্যারিফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করেছেন। এর পরই ট্যারিফ সংযোজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের নেতৃবৃন্দরা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আমদানি করা পাথর থেকে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায় না হওয়ায় গত ১৩ বছরে কয়েকশ’ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার।

ভারতে মহদীপুর স্থলবন্দর থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বিভিন্ন পণ্য সমূহ যে সকল যানবাহন পণ্য পরিবহন করা হয় তার শতকরা ৯০ ভাগ যানবাহনই ফিটনেসবিহীন। এ সব পরিবহন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতিদিনই ওই সমস্ত লক্কড়-ঝক্কড় পরিবহণ আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের গতিতে যানজট সৃষ্টি করছে। প্রায় দিনই দুই একটি গাড়ি বিকল হয়ে রাস্তায় যানজটে সৃষ্টি করছে।

ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, বাংলাদেশ হতে আমদানিকারকগণ যে সকল ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি ঋণ পত্র খুলে থাকে সে সকল আমদানি ঋণপত্রের (খ.ঈ) শর্তাবলীতে আমদানি পণ্যবাহী যানবাহনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়। তাহলে এই ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো সোনামসজিদের প্রবেশ করতে পারবেনা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের যানবাহনে ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক কড়া নজরদারি ব্যবস্থা করলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে বাণিজ্যিক মহল মনে করছেন।

উপরে