চলনবিলসহ আত্রাই নদীতে অভিযানে আটক ১, সাত জাল বিনষ্ট

চলনবিলসহ আত্রাই নদীতে অভিযানে আটক ১, সাত জাল বিনষ্ট

প্রকাশিত: ১৯-১১-২০১৯, সময়: ১৭:১৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : নাটোরের চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া ও গুরুদাসপুরে আত্রাই নদী সহ চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সোঁতি জাল বসিয়ে অবাধে মাছ শিকার সহ নির্বিচারে জলজ প্রাণি ধংস করা হচ্ছে। বাঁশের বানা (বাঁধ) দিয়ে নদী ও বিলের পানি আটকে এসব নিষিদ্ধ সোঁতি জাল বসানো হচ্ছে। এসব সোঁতি জাল বসানোর কারনে একদিকে যেমন জলজ প্রাণি ধংস হচ্ছে অপরদিকে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা নিষিদ্ধ সোঁতি জাল অপসারনে নামে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার এই দুই উপজেলায় অভিযানকালে ৭ টি সোঁতি জাল ধ্বংস করা হয় এবং আলমগীর নামে-এক সোতিজাল মালিককে আটক করা হয়। আটক আলমগীরকে ভ্রাম্যমাণ আদালত মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুসারে এক বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

সোমবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাজমুল আলমের নেতৃত্বে উপজেলঅ প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, জেলা আনসার ও পুলিশ সদস্যরা সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া,তিশিখালী,সাতপুকুরিয়া,মাগুরা বিলসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমান আদালত এসময় চলনবিলের তিশিখালীসহ তাড়াশ বারুহাস ডুবন্ত সড়ক এলাকায় স্থাপন করা বাঁশের বাধ অপসারন সহ কয়েকটি জাল আটক করে। এই অভিযানের পর আত্রাই নদী সহ আরো কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালয় ভ্রাম্যমান আদালত। পরে আটক জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, বিভিন্ন মসজিদ ও মৎস্যজীবিদের নামে সরকারী দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পানি প্রবাহিত হয় এমন স্থানে এসব নিষিদ্ধ সোঁতি বসিয়ে অবাধে মাছ শিকার করে। প্রবাহিত পানির মুখে বাঁশের বাঁধ (বানা) দিয়ে বিশাল আকারের এসব নিসিদ্ধ সোঁতি জাল বসায়। এই জাল এড়িয়ে ছোট মাছ সহ কোন প্রকারের জলজ প্রাণি অতিক্রম করে যেতে পারেনা। জালে আটকা পড়ে। মানুষ পড়ে গেলেও তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়না।

ইতিপুর্বে গত কয়েকবছরে অন্তত ১০ জন মানুষ এই জালে আটকা পড়ে নিহত হয়েছে। সোতি জালের মাধ্যমে নদীর দুইদিক থেকে অতি মজবুত বেড়া টেনে দুইদিকে পানি প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই পানিপ্রবাহের জন্য সামান্য জায়গা ফাকা রেখে সেখানে এই জাল স্থাপন করা হয়। এই নিষিদ্ধ জালে ছোট মাছ, মাছের ডিম, সকল প্রকার জলজ প্রাণী আটকে গিয়ে মারা পড়ে, এতে মৎস্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এছাড়া নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ায় নদীর পাড়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে বিল থেকে পানি নামতে না পারার কারনে চাষাবাদ ব্যহত হয়। পানি নামতে না পারায় চলতি বোরো মৌসুমে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে পারছেনা চলনবিলের চাষীরা।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার বলেন, ‘চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। আর প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে গুরুদানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তমাল হোসেন বলেন,গুরুদাসপুর উপজেলাতেও বাঁশের বানাসহ নিষিদ্ধ সোঁতি জাল অপসারনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a comment

উপরে