‘মুজিববর্ষে আইসিটি বিভাগ বিশ্ব মানবতার কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তুলে ধরবে’

‘মুজিববর্ষে আইসিটি বিভাগ বিশ্ব মানবতার কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তুলে ধরবে’

প্রকাশিত: 18-11-2019, সময়: 00:21 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : ২০২০-২০২১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে মুজিববর্ষ ঘোষনা করায় আইসিটি বিভাগ হানড্রেড প্লাস স্ট্রাটেজি গ্রহন করেছে। এই সময়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানাতে আইসিটি বিভাগ অতিরিক্ত একশ’ ঘন্টা কাজ ও একশ’টি অতিরিক্ত সেবা প্রদান করবে। মুজিব বর্ষের কর্মপরিকল্পনায় তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মসহ বিশ্ব মানবতার কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন তুলে ধরা হবে। মুজিববর্ষের পরিকল্পনা, চলনবিল ডিজিটাল সিটি, চলনবিল উন্নয়ন প্রকল্প ও চলনবিলের জীববৈচিত্র এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার বিষয় নিয়ে শনিবার নাটোরের সিংড়ায় সমকাল প্রতিনিধিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে আইসিটি প্রতিমিন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সাল স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সাল স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী। বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানাতে এই দুই সালকে মুজিববর্র্ষ হিসেবে পালন করা হবে। জাতীয় এবং বেসরকারী পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুকে ম্রদ্ধা এবং স্মরন করতে আন্তরিকতার সাথে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ নানা কর্মসুচীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে ম্রদ্ধা ও স্মরন করবে। জাতীয় পর্যায়ে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আইসিটি বিভাগের ওয়েব সাইট- “মুজিব হানড্রেড ডট জিওভি ডট বিডি” লাইভ সম্পন্ন করেছে। আইসিটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে ২০২০ সালে আইসিটি বিভাগ বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে হানড্রেড প্লাস একটি স্ট্রাটেজি গ্রহণ করেছি। এখানে আইসিটি বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বছরের ৩৬৫ দিনে অতিরিক্ত অন্তত একশ’ ঘন্টা কাজ করবেন। প্রতিদিন সকাল ৮ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করবেন সকলেই। এর বাহিরেও যে যত বেশী সম্ভব কাজ করবেন। পাশাপশি ২০২০ সালে একশ’টি সেবা জনগনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে । যেখানে ১০ কোটি মানুষ শুধুমাত্র ২০২০ সালেই সেবাগুলো পাবে। এভাবে একশ’ ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ ও সেবার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্মরন করা হবে আইসিটি বিভাগ থেকে।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষন বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হলোগ্রাফির তিন মিনিটের ভিডিও প্রচার করা হবে। বঙ্গবন্ধুর ভাষনের মধ্যে ২৬টি বাক্য বিশিষ্ট বরেন্য লেখক, সাহিত্যিক, রাজনীতিক লিখেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষনের বই রাজনীতির মহাকাব্যকে অবলম্বন করে একটি হলোগ্রাফিক ভিডিও করছি। এতে মঞ্চে বঙ্গবন্ধকে মনে হবে যেন বঙ্গবন্ধু নিজে এসে বক্তব্য দিচ্ছে। এমন একটি প্রযুক্তি ব্রবহার করা হবে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে এমন একটি প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা দেশের মানুষকে উপহার দিতে পারব বলে আশা করছি। পাশাপাশি ফেসবুক সহ সকল ধরনের অন লাইনে বঙ্গবন্ধর জীবন এবং তার আদর্শ, সংগ্রামী জীবন, কর্মপরিকল্পনা ও ভীশন তুলে ধরা হবে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উদযাপনকে ঘিরে ঘোষিত মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দুটি বছরে আমাদের প্রযুক্তির প্লাটফরমে যা যা করনীয় তাই উদ্যোগ গ্রহণ করছি। ভবিষ্যৎ প্রজম্মের কাছে বঙ্গবন্ধর জীবন, আদর্শ, কর্মপরিকল্পনাএবং তাঁর যে নীতি ও সংগ্রামী জীবন তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুকে শুধু বাংলাদেশের বর্তমান প্রজম্মদের কাছেই নয়, বিশ্বের মানবতার কাছে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা। কারন বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব মানবতার বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। তাই বঙ্গবন্ধুকে আমরা সারা বিশ্বের ভবিষ্যত প্রজম্মের কাছে তুলে ধরার জন্য ডিজিটাল প্লাটফরম ব্যবহার করছি। যাতে করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ্বের সংগ্রামী ও স্বাধীনতাকামী মানুষদের কাছে বঙ্গবন্ধু স্মরনীয় ও বরনীয় হয়েছেন। সেই বিষয় জানতে এবং তাঁর আদর্শকে অনুসরন করতে পারে সেভাবে আমরা ডিজিটাল প্লাটফরমে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছি।

প্রতিমন্ত্রী পলক সিংড়াকে মিনি সিঙ্গাপুর এবং চলনবিল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, সিংড়া আসনে বিগত ৩৭ বছরে নৌকা প্রতীক নিয়ে কেউ বিজয়ী হতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি নৌকা মার্কা প্রতীকে বিজয়ী হয়ে সেই বন্ধাত্ব ঘুচিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার চলনবিল তথা সিংড়ার উন্নয়নে ব্যপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। পরিকল্পনানুযায়ী ইতিমধ্যে প্রায় শতকোটি টাকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া আগামী ৪ বছরের মধ্যে আমাদের স্বপ্ন সিংড়াকে চলনবিলের এক টুকরো সিঙ্গাপুর অথাৎ ডিজিটাল সিটি হিসেবে গড়ে উঠবে।

Leave a comment

উপরে