সাপাহারে ঋনের জামিনদার হয়ে বিপাকে শিক্ষক

সাপাহারে ঋনের জামিনদার হয়ে বিপাকে শিক্ষক

প্রকাশিত: ১৬-১১-২০১৯, সময়: ১২:১৬ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাপাহার : নওগাঁর সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম একই প্রতিষ্ঠানের চাকুরীচূত শিক্ষক একে রায়হানের ঋনের জামিনদার হয়ে বিপাকে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ২৫-১১-২০০৯ ইং তারিখে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক একে রায়হান সোনালী ব্যাংক সাপাহার শাখা থেকে ৪৫ হাজার টাকা ভোগ্যপন্য ঋণ গ্রহণ করেন সে ঋনের জামিনদাতা হন একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। একে রায়হান ঋন গ্রহণের সময় সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলো। এর মধ্যে ২০১১ সালে চাকুরীচূত হন একে রায়হান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঋনের টাকা পরিষোধ না করে একে রায়হান এ পর্যন্ত বিভিন্ন টালবাহানা করে দিন পার করছেন। চাকুরী থাকা অবস্থায় রায়হান মাষ্টার লোনের ১২ হাজার টাকা পরিশোধ করে। পরবর্তীতে ব্যাংকের লোনের টাকা পরিশোধ না করে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

গত ১২-০৬-২০১৭ ও ১১-১০-২০১৭ তারিখে জামিনদার সিরাজুলের একাউন্ট থেকে জোর পূর্বক ৫ হাজার টাকা কেটে নেয়। নিরুপায় হয়ে জামিনদাতা শিক্ষক সিরাজুল চাকুরীচূত শিক্ষক একে রায়হানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে রায়হান সে সময় বিভিন্ন হুমকী প্রদান করে এবং শারিরিক লাঞ্চিত করে।

সহকারী শিক্ষক সিরাজুল অভিযোগ করেন, সে সময় চাকুরীচূত একে রায়হান সোনালী ব্যাংকের ঋনের টাকা পরিশোধ করবেনা। চতুর একে রায়হান সে সময় আরো বলে তোমার বেতন থেকে টাকা কর্তন করে নিবে তোমার যা করার তাই করো বলে নিজ বাড়ি থেকে সিরাজুল মাষ্টারকে বের করে দেয়।

গত ৭ নভেম্বর সিরাজুল মাষ্টার সোনালী ব্যাংকে বেতন তুলতে গেলে ব্যাংক বেতন দিবেনা মর্মে বলে দেয় এবং চাকুরীচূত একে রায়হান কে ব্যাংকে নিয়ে যেতে বলে। আবারো নিরুপায় হয়ে সিরাজুল মাষ্টার সাপাহার জিরোপয়েন্টে একে রায়হানের সাথে যোগাযোগ করে ব্যাংকে যেতে বলে। সে সময় একে রায়হান ব্যংকে যাবেনা মর্মে বলে দেয়। সিরাজুল মাষ্টার চাকুরীচূত একে রায়হানের হাত ধরে আকুতি করে ব্যাংকে যাবার জন্য তখনি রায়হান মাষ্টার বিভিন্ন নাটক শুরু করে দেয় এবং সিরাজুল মাষ্টার কে আবারো লাঞ্চিত করে।

খবর পেয়ে সাপাহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের কথা শুনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি সহ স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একে রায়হান কে ব্যাংকে নিয়ে যায়। ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে চাকুরীচূত একে রায়হান ১ মাসের মধ্যে ঋন পরিশোধ করবে মর্মে বলে। ব্যাংক কর্তপক্ষ একে রায়হান কে ১ মাস সময় দিয়ে সিরাজুল মাষ্টার কে বেতন দেয়।

এ বিষয়ে সিরাজুল মাষ্টার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যেন সামনের মাস থেকে চাকুরীচূত একে রায়হানের ঋনের কারনে তাঁর বেতন বন্ধ বা বেতন থেকে টাকা কর্তন না করা হয়। সেই সাথে ওই ঋনের জামিনদার হিসেবে অব্যাহতি দেয়।

Leave a comment

উপরে