সম্রাট এখন মাটিতে

সম্রাট এখন মাটিতে

প্রকাশিত: ১৬-১১-২০১৯, সময়: ০৯:৫৩ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : একসময় বিলাসী জীবনযাপন করা যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট এখন সাধারণ বন্দি। রাতে কম্বল বিছিয়ে মাটিতে ঘুমান। রাজধানীর দাপুটে এই নেতার সময় কাটে এখন একা একা। অন্য কয়েদিরা কথা বলতে চাইলেও নীরব থাকেন তিনি। চাইলেও সেলের বারান্দা ছাড়া খোলা মাঠে যেতে পারেন না। একসময় পাঁচ তারকা হোটেলের খাবার খাওয়া এই গডফাদারের খেতে হয় জেলের বরাদ্দ করা খাবার। ঘুমান আট বাই দশ ফিটের কক্ষে। একটি কম্বল ছাড়া কিছুই দেয়া হয় না তাকে। কাশিমপুর কারাগারের একাধিক কারারক্ষী সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, জেলের খাবার নিম্নমানের হওয়ায় খেতে পারেন না সম্রাট। জেল কোড অনুযায়ী বাইরের খাবার নিষেধ হওয়ায় বাসা থেকেও খাবার পাঠাতে পারে না তার অনুসারীরা। যার ফলে বাধ্য হয়ে জেলের ক্যান্টিনের খাবার খান তিনি। প্রথম দিকে ক্যান্টিনের খাবার খেতে চাইতেন না সম্রাট, পরে অনেকটা বাধ্য হয়েই খাওয়া শুরু করেছেন।

কাশিমপুরের হাইসিকিউরিটি জেলের তিতাস জোনের দোতালার ২২৪ নম্বর সেলে থাকেন সম্রাট। এই সেলগুলোতে সাধারণত দাগি আসামিদের রাখা হয়। বিষেশত যারা বহিঃশত্রু আক্রমণের আশঙ্কায় থাকে। কারা সূত্রমতে সম্রাট দিনেরবেলাতেও সেলের বাইরে যেতে পারেন না। তিনি বাইরে হাঁটাহাঁটি করার জন্য কয়েকবার অনুমতি চেয়েছেন কিন্তু তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেই অনুমতি দেয়া হয়নি। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সেলের ভেতরে থাকেন আর দিনেরবেলা কিছু সময় সেলের বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করে সময় পার করেন। পাশে থাকা বন্দিদের সঙ্গেও তেমন কোনো কথা বলেন না সম্রাট। দিনের বেশির ভাগ সময় আনমনা ও হতাশায় সময় কাটান তিনি।

কাশিমপুরে আসার পর দিন সম্রাটের স্ত্রী ও আইনজীবীরা এসে দেখা করে গেছেন। এর বাইরে তার দলের নেতা কয়েকজন এলেও তিনি দেখা করেননি। তার কাছে টাকা দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তার জমানোর প্রায় সব টাকা আছে বিদেশে। চাইলেও তিনি তা দেশে আনতে পারছেন না। এ টাকা এমনভাবে রয়েছে যে তিনি ছাড়া আর কেউই তুলতে পারবে না। এই টাকার ভবিষ্যৎ কি তাও অনিশ্চিত।

সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার ছেলে কয়েকবার দেশে আসতে চেয়েছেন কিন্তু তিনি নিষেধ করেছেন। তার বর্তমান স্ত্রী এসব বিষয়ে অনেক কম বোঝে। এ ছাড়া গত দুই বছর তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো না।

তার এক অনুসারী জানান, ভাই এখন একদম একা হয়ে গেছেন। একসময় কত বড় বড় ব্যক্তিরা তার কাছে আসত কিন্তু তার বিপদে এখন কেউ নেই। এ নিয়ে ভাইয়ের ক্ষোভ রয়েছে। আমরা গেলেও দেখা করতে চান না। তিনি আগে থেকেই কথা কম বলতেন কিন্তু এখন আরও কম কথা বলেন। আমরা কেউ দেখা করতে গেলেও তিনি সামনে আসতে চান না। তিনি যখন আত্মগোপনে ছিলেন তখন অনেক বড় বড় নেতার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাদের দেখা পাননি।

সূত্র আরও জানায়, তিনি যে দলের জন্য এত কিছু করছেন তার বিপদে সে দলেরই কেউ এগিয়ে আসেননি। দলের জন্য একসময় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন সম্রাট।

কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার শাহাজান আহমেদ জানান, ‘এই কারাগারে সাধারণত জঙ্গি বা আলোচিত মামলার আসামিরা থাকেন। এটা দেশের অন্য জেলের চেয়ে আলাদা। এখানে সবাই অলাদা আলাদা সেলে থাকে কারও সঙ্গে কারও দেখা করার সুযোগ কম। তিনি আরও বলেন, সম্রাট এখানে সাধারণ বন্দিদের মতো আছেন। এর বাইরে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না।’

Leave a comment

উপরে