স্মার্টফোন আসক্ত ৩১০ তরুণকে খোলার মাঠে ফেরালেন ইউএনও

স্মার্টফোন আসক্ত ৩১০ তরুণকে খোলার মাঠে ফেরালেন ইউএনও

প্রকাশিত: 08-11-2019, সময়: 18:28 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : নাটোরের গুরুদাসপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তমাল হোসেন ৩১০ তরুণকে স্মার্টফোন ছেড়ে খেলার মাঠে ফিরিয়ে এনেছেন। এলাকার তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর জীবনের দিকে ফেরাতে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন ইউএনও তমাল হোসেন। স্থানীয় কয়েকজন সাবেক খেলোয়ারের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামুলক সভা করে এসব তরুণ খেলোয়ারদের মাঠে ফেরাতে উদ্বুদ্ধ করেন। তরুণ খেলোয়ারদের মাঠে ফেরানো সহ প্রবীন ও সাবেক খেলোয়ারদেরও মাঠে ফিরিয়ে আনেন তিনি। সাবেক এসব খেলোয়ারদের দিয়েই ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার প্রশিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন। খেলোয়ারদের জন্য সরবরাহ করেছেন ফুটবল ও ক্রিকেট সামগ্রী সহ বিভিন্ন খেলাদুলার সরঞ্জাম। নিয়মিত চলছে তাদের চর্চা। এ কাজে তিনি প্রাক্তন খেলোয়ারদের সহযোগিতা নিয়েছেন। ইউএনওর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রীড়ামোদীসহ সর্বস্তরের মানুষ।

স্থানীয় ক্রিড়ামোদীরা জানান, ইউএনও তমাল হোসেনের এই উদ্যোগের কারনে গুরুদাসপুরের ঝিমিয়ে পড়া ক্রিড়াঙ্গনে আবারও প্রানচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। নাটোর জেলা ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর তিনি যে সম্মাননা পেয়েছেন, তা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ইউএনওর এই উদ্যোগে উপজেলার মৃতপ্রায় বা ঝিমিয়ে পড়া প্রায় সব কটি খেলার মাঠে এখন প্রানের স্পন্দন শুরু হয়েছে। তিনি নিজে খুবজীপুর মাঠে ৭০ জন তরুন ফুটবলারকে প্রশিক্ষন দিচ্ছেন। এছাড়া ফুটবলার পলান ঘোষের পরিচালনায় বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি অনার্স কলেজ মাঠে প্রশিক্ষন নিচ্ছে ২০০ জন। সোহানুর রহমান সজীবের পরিচালনায় ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ৫০ জন তরুন। তাদের সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।

খেলোয়াড় মানিক মিয়া জানান, খেলাধুলা শুরু হওয়ায় তারা আনন্দিত। পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সম্মাননা দেওয়ায় তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ। এর মাধ্যমে ক্রীড়ানুরাগীরা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবে।

ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থী আর উঠতি বয়সী তরুণদের যে সময়ে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার কথা সে সময় তারা স্মার্টফোন হাতে অলস সময় কাটায়। এর ফলে তরুণ সমাজ একদিকে যেমন ক্রীড়া ও কর্মবিমুখ হয়ে পড়ছে, তেমনি জড়িয়ে পড়ছে সাইবার ক্রাইমে। এছাড়া মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্থ হয়ে বিভিন্ন অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়ছে। আবার অনেকে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এসব থেকে তরুণ সমাজকে বের করে আনার জন্য তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তরুণদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করে তাদের খেলার মাঠে ফিরতে উদ্বুদ্ধ করেন। তার এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৩১০ যুবক স্মার্টফোন ছেড়ে খেলার মাঠে ফিরেছে। তাদের ফুটবলসহ খেলার বিভিন্ন সামগ্রী কিনে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, গুরুদাসপুর উপজেলায় ১০টি বড় খেলার মাঠ রয়েছে। দীর্ঘদিন খেলাধুলা না করায় এগুলো পরিত্যক্ত ও গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছিল। এখন বিকেল হলেই এসব মাঠে তরুণরা জড়ো হচ্ছে। মেতে উঠছে ফুটবল আর ক্রিকেট খেলায়। তরুণদের সহযোগিতায় তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন। উপজেলার সব ক্রীড়ানুরাগীকে সম্মানিত করার পাশাপাশি মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং মুক্ত গুরুদাসপুর নির্মাণের জন্য তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

উপরে