৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেণ নির্মাণ কাজে নেই অগ্রগতি

৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেণ নির্মাণ কাজে নেই অগ্রগতি

প্রকাশিত: ১৫-১০-২০১৯, সময়: ১৪:১৫ |
Share This

আমিনুল ইসলাম তন্ময়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই ধারে ড্রেনসহ সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে সময় বেধে দেয়া হয়েছে দেড় বছর। অথচ জেলা শহরের অদুরে নয়াগোলা থেকে আমনুরা পর্যন্ত এ সড়কের দুই ধারে রয়েছে প্রায় ৪০টি অটোরাইস মিলসহ বিভিন্ন মাঝারী ও ছোট স্থাপনা। অসংখ্য খানাখন্দের কারণে ঝুঁকিপুর্ণ সড়কে ট্রাক-বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে কাজের ধীর গতির । মাত্র সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেড় বছরের অস্বাভাবিক সময় প্রাদান করায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের গাফলতির কারণে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ব্যস্ততম চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কটি। বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং, ইট, বালু ও খোয়া উঠে বড় বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এর ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।

কাজে ধীরগতির কথা স্বীকার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ব্যস্ত এ সড়কের কাজের গতি বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক সংস্কারে দ্রুততাসহ যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে ঠিকাদারদের লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিমীয়মাণ ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খানাখন্দে ভরপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়ক। সাধারণ মানুষে প্রতিক্রিয়া, এ সড়কটি মানুষসহ যানবাহন চলচল অনুপযোগী। সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একমাত্র এ সড়ক পথে যাওয়া যায় আমনুরা, নাচোল, নওগাঁর এবং রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিদিন চলাচল করে বাস-ট্রাকসহ শত-শত ছোট-বড় যানবাহন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের নয়ানগর গ্রামের রবিউল ইসলাম, শফিকুল আলমসহ স্থানীয়রা জানান, গত ৫ বছর পুর্বে ’১৪ সালে সড়কটি সর্বশেষ কার্পেটিং করা হয়। ইতিপুর্বে এ সড়কে দুই পাশে গড়ে উঠে ৪০টি অটো রাইস মিল। প্রেক্ষিতে ক্রমশ ব্যস্ত হয়ে উঠে এলাকাটি। ধান-চাল ভর্তি ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় ঝুঁকিপুর্ণ খানাখন্দ। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে নয়াগোলার অনতিদুর বুলনপুর থেকে জামতলার পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়ক।

প্রেক্ষিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়ক নতুন করে নির্মাণের জন্য ’১৮ সালে শেষ দিকে দরপত্র আহবান করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। চলতি বছরের জুন মাসে দুই প্যাকেজের এই কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৩৯ কোটির টাকার এই কাজে দুই কিলোমিটার সড়ক রড-সিমেন্টের ঢালাই, সড়কের দু’ধারে ড্রেনসহ সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উল্লেখ্য রয়েছে সিডিউলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ’২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেড় বছর সময় বেধে দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

নাম গোপন রাখার শর্তে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একাধিক তথ্য নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, অল্প পথের সড়ক ও ড্রেণ নির্মাণে দেড় বছরের সময় দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঠিকাদার সমিতির সদস্যরা জানান, সর্বোচ্চ ছয় মাসে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্ত বেশী সময় পাওয়া ধীর গতিতে কাজ করছেন ঢাকার থেকে ঠিকাদারী নেয়া নির্মাতা প্রতিষ্ঠাত দু’টি। তাদের অভিযোগ, কার্যাদেশ পেয়েও যথা সময় নির্মান বা সংস্কার কাজ শুরু করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ আমনুরা সড়কের দু’ধারে বর্তমানে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। সমন্বয়হীনতা নেই দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজে। ড্রেনের জন্য খোড়া মাটি রাখা হচ্ছে সড়কের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।

আমনুরার স্কুল শিক্ষক কুদরত আলী ও পল্লি চিকিৎক মাহতাব উদ্দিন জানান, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। ৪০ মিনিটের পথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আমনুরা হয়ে নাচোল যেতে সময় লাগছে ২ ঘন্টা।

জামতলার অ্যারোমেটিক অটো রাইস মিলের মালিক রফিকুর ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হলেই এই সড়কের অনেক জায়গা হাটু পানি জমছে। খাল-গর্তের কারনে বুলনপুর, আতাহার, জামতলা এলাকার অটোরাইস মিলগুলোতে ধান-চাল আনা নেওয়ায় খুব সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অপর অটোরাইস মিল মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ভোগের শেষ নেই তাদের এ সড়কটি নিয়ে। কবে নাগাদ এ সড়কে কাজ শেষ হবে কেউ জানে না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমনুরা সড়ক নিমার্ণের কাজ শুরু করলেও চোখে পড়ার মত অগ্রগতি নেই। দুর্ভোগে পড়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এএম আতিকুল্লাহ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের টেন্ডারটি হয় ঢাকা সড়ক ও জনপথ দপ্তর থেকে। প্রেক্ষিতে তারা অনেকাংশে রয়েছেন অন্ধকারে। ড্রেনসহ মাত্র সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়কে দীর্ঘ সময় দেয়া হয় উপর থেকেই। কিন্তু কেন? এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Leave a comment

উপরে