তাড়াশে স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সকল ডাক্তার-কর্মচারীদের মানববন্ধন

তাড়াশে স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সকল ডাক্তার-কর্মচারীদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১০-১০-২০১৯, সময়: ১৭:৫১ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাড়াশ : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চত্বরে ওই মানববন্ধনে সকল ডাক্তার-কর্মচারী অংশ নেয়।

বক্তৃতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শিমুল তালুকদার, ডা. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. মিজানুর রহমান, সার্জারী কনসালট্যান্ট ডা. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ বলেন, কোন রকমের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তিনি (ডা.ফরিদা ইয়াসমিন) সকল ডাক্তার কর্মচারীদের সাথে প্রায়শই চরম দূর্ব্যবহার করে থাকেন।

তার দূর্ব্যব্যহার সইতে না পেরে ইতোমধ্যে তিনজন ডাক্তার চলে গেছেন। এছাড়া আরও অনেকেই বদলির জন্য আবেদন করে রেখেছেন।

তারা আরো বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিনি তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক সারা বাংলাদেশের ডাক্তারদের কাছে পদন্নতির জন্য চিঠি আসে এ বছর মে মাসের ১৯ তারিখে। স্বারক: DGHS/ পার-তথ্য/১১/৪৯/২১/১৯। অথচ তিনি ওই তারিখেই স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। আর কথায়-কথায় তিনি সবাইকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভয় দেখান। বক্তারা এও বলেন, তার কোন মানসিক রোগ আছে কি না চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স ষ্টাফ তাহিরা খাতুন, লায়লা সুলতানা, আঞ্জুয়ারা খাতুন, সুচিত্রা রানী শীল প্রমূখ অভিযোগ করেন, তাদের সাথে তিনি প্রায় সারাক্ষণ অমানবিক আচারণ করেন। তাদের সবাইকে তিনি বলেন, যাদের চতুর্থ শ্রেণিরও কর্মচারী হওয়ার যোগ্যতা নেই তারা আবার দ্বিতীয় শ্রেণিতে চাকরি করছেন। আপনারা সবাই অসদ উপায় ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন। আপনাদের সন্তানরাও মানুষ হবেনা। সব কুলাঙ্গার হবে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন ড্রাইভার আব্দুল মোমেন সরকার ও নিরব মিয়া বলেন, তাদের চা পানের কাপ-প্রিজ দিয়ে পর্যন্ত ঢিল ছুড়ে মারা হয়েছে। একই জায়গায় (ড্রাইভার আব্দুল মোমেন সরকার) ২৭ বছর চাকরি করে তার (ডা.ফরিদা ইয়াসমিন) দূর্ব্যবহার সইতে না পেরে বদলির জন্য আবেদন করে রেখেছেন।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, মেডিকেল এসিটেন্ট, মাজেদুল ইসরাম, অফিস সহকারী বাবুল হোসেন, কেশিয়ার আব্দুল মান্নান, স্টোর কিপার শাহাদত হোসেন, ওয়ার্ড বয় মোতালিব হোসেন, নাইড গার্ড ঘোরা চাদ মিয়া, ঝাড়ুদার অর্চনা, সুইপার বাসন্তী রানী প্রমূখ। এদেরও অভিযোগ, হেন দূর্বব্যবহার নেই যা তাদের সাথেও করা হয় না।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তিনি কারো সাথেই কোন রকমের দূর্ব্যবহার করেন না। কেউ প্রমান করতেও পারবেন না।

Leave a comment

উপরে