চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘুষ ছাড়া মেলে না পল্লী বিদ্যংতের সংযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘুষ ছাড়া মেলে না পল্লী বিদ্যংতের সংযোগ

প্রকাশিত: ১০-১০-২০১৯, সময়: ১৩:৪০ |
Share This

আমিনুল ইসলাম তন্ময়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘরে-ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এবং নাচোল উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণা করা হলেও, সে নির্দেশ মানছে না চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বহুমূখী হয়রানীর কারণে সব ধরনের কাগজপত্র থাকার পরও গ্রাহকরা বাড়িতে পাচ্ছেন না বৈদ্যুতিক সংযোগ।

১৪৫টি বাড়ি ও চারটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে ইতোমধ্যে (২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কর্র্র্র্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। বিদ্যুতের সংযোগ সংক্রান্ত গড়িমসি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একাধিক এলাকা সরজমিনে পাওয়া গেছে এ চিত্র।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফুরশেদপুর গ্রামের ১০টি পরিবার বিদুতের লাইনম্যানকে বাড়ি প্রতি ৩হাজার টাকা না দেয়ায় ৩ বছর যাবৎ পল্লী আবাসিক সংযোগ পাচ্ছে না, এমন অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। ফুরশেদপুর মৌজার কাঁটাপুকুর গ্রামের খাস পুকুর পাড়ে ২০বছর যাবৎ বাড়িঘর নির্মান করে বসবাস করছেন ১০টি পরিবার। ’১৬ সালের শেষ দিকে এলাকার টেকনিশিয়ান শাজাহান আলী ও জোবায়ের আলীর মাধ্যমে বিদ্যুতের পিলার স্থাপন, পিলার থেকে ড্রপ-তার টাঙানো, ঘর ওয়ারিং, অর্থিং রড স্থাপন, মিটার ও সুইচ বোর্ড লাগানোর কাজ শেষ করেন। কিন্তু লাইনম্যানদের বাড়ির সংযোগ প্রতি তিন হাজার টাকা দিতে না পারায় ৩ বছর যাবত আবাসিক সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। লাইনম্যানেরা বৈদ্যুতিক ট্র্যান্সফরমার স্থাপনের জন্য সংযোগ প্রার্থীদের কাছে থেকে আরও ৮ হাজার টাকা দিতে হবে বলে দাবী করেন।

ফতেপুর ইউপির ওয়ার্ড মেম্বার সর্তুজা রেজা জানান, লাইনম্যানদের চাঁদা দাবীর কারণে এতদিন সংযোগ হয়নি এটি সত্য নয়। লাইনম্যান শাজাহান আলী ও জোবায়ের আলী টাকা চাওয়ার কথা অস্বীকার করে জানান, ১০টি পরিবার সরকার থেকে বিনা পয়সায় মিটার-সুইচ ও সংযোগ পাবে এমন আশায় বসে আছে।

এদিকে নাচোলের হাঁকরইল গ্রামের আবুল মাহবুবুর রহমান সরকারের ভেষ্টেট জমিতে বাড়ি নির্মান করে ১৯ বছর যাবত বসবাস করছেন। তিনি চেষ্টা-তদবির করেও তার বাস স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি। ওই পাড়ায় একই ধরণের ভেষ্টেট সম্পতিতে আরো ১২/১৩টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হযেছে। মাহবুবুর রহমান নিয়ম অনুযায়ী ২ মে ’১৯ তারিখে ১১৫ টাকা জমা দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য হন। ভেষ্টেট জমিতে বসবাসের জন্য আরো ৯’শ টাকা জমা করে সাব জোনাল অফিসের নির্দেশে মিটার, মেইন সুইচ, আর্র্থিং রড ক্রয় করে ঘর ওয়ারিং-এর কাজ করান। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের নাচোল সাব-জোনাল অফিসের এজিএম-এর অনিয়মের কারণে প্রায় ৫মাস যাবত বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে হয়রানী করছেন। পাচ্ছেন না বিদ্যুৎ সংযোগ। তিনি জানান, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী, দুদক ও বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানীর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন।

নাচোল পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল কার্যালয়ের এজিএম আনোয়ার হোসেন জানান, ওই ১০টি পরিবারকে সংযোগ দিতে গেলে ট্র্যান্সফরমার আপগ্রেডের প্রয়োজন হতে পারে। তবে টাকা নেয়ার কথা নয়। আর প্রতিটি বাড়ির জন্য লাইনম্যানদের ৩হাজার টাকা দাবীর বিষয়টি তার অজানা। লিখিত স্পষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, ২মে’১৯ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সার্কুলার অনুযায়ী খাস জমি-পুকুর পাড়ে বসবাসকারীদের বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে অকুপেন্সী সনদ লাগবে। যা বিদ্যূৎ আবেদনকারীরা দিতে পারেননি।

অপরদিকে, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চল ইসলামপুর ইউনিয়নের চরনারায়ণ এলাকাবাসী মঙ্গলবার(২৪ সেপ্টেম্বর) দুপরে শেখ হাসিনা সেতু সেতু এলাকায় মানববন্ধন করে। আন্দোলনকারীদের দাবী, ৬ মাস পুর্বে চরনারায়ণপুর এলাকায় বিদ্যুতের পিলার, বৈদ্যুতিক তার, ট্রান্সফরমার স্থাপন এবং বাড়িতে ও মসজিদে ওয়ারিং-এর কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু, সংযোগ প্রতি অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা না দেয়ায় বাড়িতে সংযোগ দিচ্ছে না পল্লী বিদ্যুৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ উপজেলার মধ্যে দু’টি উপজেলা নাচোল ও ভোলাহাট প্রকল্পের আওতায় শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। কিছু কাজ চলমান রয়েছে ঠিকাদারের মাধ্যমে। যা শেষ হবে খরা মৌসুমের পুর্বেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা স্বীকার করে তিনি পল্লী বিদ্যুতকে আলোর ফেরীওয়ালা দাবী করে জানান, কারো বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে নির্দৃষ্ট অভিযোগ পেলে দাফদরিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এমজেডএম নুরুল হক জানান, সরকারী খাস জমি, এনিমি প্রপার্টি বা ভেষ্টেট প্রপার্টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া অনুচিত। তবে কোন দুঃস্থ বসবাসকারি নিকন্টক সরকারী খাস জমি, এনিমি প্রপার্টি বা ভেষ্টেট প্রপার্টি প্রাপ্তির অনুমোদন চাইলে তাদের সহযোগীতা করা হবে।

Leave a comment

উপরে