চৌহালীতে ইলিশের নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই জেলেরা যমুনায়

চৌহালীতে ইলিশের নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই জেলেরা যমুনায়

প্রকাশিত: ০৯-১০-২০১৯, সময়: ১৬:২৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : প্রজনন মৌসুম ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হলেও যমুনায় মাছের প্রাচুর্য্যতায় সিরাজগঞ্জের ৫টি উপজেলা সহ চৌহালী-এনায়েতপুরের লোভী জেলেরা বসে নেই। রুপালী শস্য ইলিশের এই এলাকাটি উত্তরবঙ্গের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র হওয়ায় অন্যান্য বছরের চেয়ে রেকর্ড পরিমান নতুন জাল ও নৌকা তৈরী করে মাছ ধরছে অসাধু জেলেরা।

অভিযোগ উঠেছে এজন্য জেলেদের কৌশলে সুবিধা দেয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে থানা পুলিশ ও মৎস্য অফিসের অসাধু কর্মচারীরা। তাই নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই ভয় ডর উপেক্ষা করে চলছে মা ইলিশ নিধন। তবে ইলিশ প্রজননের মৌসুমে কোন ভাবেই অতীতের মত কাউকে শিকার করতে দেয়া হবেনা বলে জানিয়ে অসৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারন করেছেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ।

সিরাজগঞ্জের ৯টি উপেজলার মধ্যে কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলা হচ্ছে যমুনা নদী বিদৌত। এসব উপজেলার চর ও পাড়ের মানুষ গুলোর কৃষির পরেই মাছ আহরন অন্যতম পেশা হওয়ায় ৪ হাজার ৩৮৭ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। তবে অনিবন্ধিত কয়েক গুন। বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চল ঘেরা দুর্গম জনপদ চৌহালী উপজেলার অধিকাংশ অভাবী মানুষের কৃষির পরেই প্রধান পেশা মাছ শিকার। এখানে নিবন্ধিত ১ হাজার ৪৫২ জন জেলে সহ প্রায় ৪ সহস্রাদিক জেলে এ কাজে জড়িত।

ইলিশ, ঘাইড়া, আইড় সহ নদীর অন্যান্য সুস্বাদু মাছ ধরতে তাদের ঘের জাল ও নিষিদ্ধ ক্যারেন্ট জালই হচ্ছে প্রধান উপকরন। উমরপুর, বাঘুটিয়া, খাসকাউলিয়া, ঘোরজান, স্থল, সদিয়াচাঁদপুর, খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের এসব জেলেরা তাদের ছোট-বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা করে দিন-রাত চালিয়ে আসছেন মাছ আহরনের কাজ। নিবন্ধিত জেলে সহ প্রায় ৪ সহস্রাদিক জেলের যমুনায় মুল্যবান সুস্বাদু মাছ ধরতে অন্যতম উপকরন নিষিদ্ধ ক্যারেন্ট জাল।

তাদের ছোট-ছোট ইঞ্জিন চালিত নৌকা করে দিন-রাত চলে মাছ আহরন। প্রতিবারের ন্যায় ইলিশের বংশ বিস্তারে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে সরকার। এ সময়কালীন আহরন, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রিও নিষিদ্ধ।

তবে এ মৌসুমে জেলার অন্য এলাকার চেয়ে চৌহালী-এনায়েতপুরে ব্যাপক ভাবে এই মাছের বিস্তার হওয়ায় অন্যান্য বছরের মত নিষেধাজ্ঞার মৌসুমে জেলেরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে অবৈধ ক্যারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ নিধন শুরু করছে। অন্যান্য বছরের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে কৌশলে দ্বিগুন ক্যারেন্ট জাল ও নৌকা তৈরী করেছে চৌহালী, এনায়েতপুর যমুনা পাড়ের জেলেরা।

বুধবার নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে বোয়ালকান্দি, চালুহারা এলাকায় দেখা গেছে জেলেরা নৌকায় জাল-দরি নিয়ে নদীতে অবাধে শিকার করছে ইলিশ মাছ। থানা পুলিশ ও মৎস্য অফিসের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তার যোগ সাজোশে অর্থের বিনিময়ে হচ্ছে ডিমওয়ালা এ মাছ নিধন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেরা জানান, নিজেদের পেটের কথা চিন্তা করে পুলিশের ভয়-ডর উপেক্ষা করে আমরা মাছ ধরছি। মৎস্য অফিসের কর্মচারী ও পুলিশের নিয়োগ করা দালালের মাধ্যমে থানায় টাকা দিয়েই মাছ ধরছি।

এদিকে চৌহালী উপজেলা মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি রমজান আলী জানান, চৌহালীতে ১৪৫২ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে মাত্র ৩৫৭ জন জেলেকে ২০ কেজি করে সরকারী ভাবে চাল দেয়া হবে। যা সংসার চালাতে একেবারেই অপ্রতুল। আর বাকিরাতো পাচ্ছেই না। এ অবস্থায় আমাদের জেলেরা কি করবে। কিভাবে চলবে।

এ ব্যাপারে চৌহালী থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরতে দেয়া হবেনা। আমরা সকলকে সচেতনার পাশাপাশি নদীতে টহল ব্যবস্থা জোড়দার করেছি।

এদিকে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ জানান, উত্তরবঙ্গের ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র সিরাজগঞ্জের কোথাও মা ইলিশ ধরতে দেয়া হবেনা। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হবে। এছাড়া কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a comment

উপরে