সুজানগরে পেঁয়াজ রোপন নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা

সুজানগরে পেঁয়াজ রোপন নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা

প্রকাশিত: ০৮-১০-২০১৯, সময়: ২০:৫৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুজানগর : হঠাৎ করেই অসময়ে বন্যা দেখা দেয়ায় নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ রোপন করা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী সুজানগর উপজেলার কৃষকেরা। মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) সুজানগর উপজেলার ভাঁয়না ইউনিয়নের চর বিশ্বনাথপুর,গোপালপুর সহ পদ্মা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাযায় বন্যার পানি আস্তে আস্তে কমতে শুরু করলেও পেঁয়াজ রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত হতে সময় লাগবে আরো অন্তত ১৫ থেকে ২০দিন।

উপজেলার চর বিশ্বনাথপুর এলাকার কৃষক হোসেন শেখ জানান এবকারে নতুন পেঁয়াজ রোপন করার জন্য জমি চাষ করে প্রস্তুত করে রেখেছিলাম,কিন্তু হঠাৎ করে বন্যা দেখা দেয়ায় এখন আর পেঁয়াজ রোপন সম্ভব হচ্ছেনা। অপর কৃষক নুরাল হোসেন জানান এ অঞ্চলের কৃষকেরা প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে অক্টোবর মাস পর্যন্ত নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ জমিতে রোপন করে থাকে,কিন্তু বন্যার কারণে এ বছর সঠিক সময়ে এই পেঁয়াজ রোপন করতে পারবেনা কৃষকেরা।

উপজেলার চর সুজানগর এলাকার কৃষক আনছার আলী বলেন প্রতি বছর যে সকল জমিতে পেঁয়াজ রোপন করা হয়ে থাকে এবারের বন্যার পানিতে অনেক জমিতেই বালি জমা হওয়ায় কৃষকেরা আর এ সকল জমিতে নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ রোপন করতে পারবেনা।

উপজেলার দূর্গাপুর এলাকার পেঁয়াজ চাষী রেজাউল করিম (রেজা মন্ডল) জানান প্রতি বছর এই উপজেলার কৃষকেরা মূলকাটা পেঁয়াজ রোপনের ২ মাস পরেই ডিসেম্বরের ২য় সপ্তাহ থেকে আবার জমি থেকে তুলে বিক্রি করতো। কিন্তু এবারে বন্যার কারনে সেটা হয়ত একমাস পিছিয়ে যাবে।

সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী জানান অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমানে এমনিতেই পেঁয়াজের দাম বেশি, তারপর আবার বন্যার কারণে সঠিক সময়ে কৃষকেরা জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজ রোপন করতে না পারায় দাম আর বেশি একটা কমবে বলে মনে হচ্ছেনা সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসার ময়নুল হক সরকার জানান এ বছর সুজানগর উপজেলায় নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৮‘শ হেক্টর জমিতে ।কিন্তু অসময়ে হঠাৎ করে বন্যা দেখা দেয়ায় পেঁয়াজ রোপনের জন্য প্রস্তুতকৃত অনেক জমিই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হয়ত সেই লক্ষ্যমাত্রাটা অর্জিত নাও হতে পারে।

Leave a comment

উপরে