ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন ২ নারীকে নির্যাতন

ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন ২ নারীকে নির্যাতন

প্রকাশিত: ২২-০৭-২০১৯, সময়: ১৭:১২ |
Share This

পদ্মাটাইস ডেস্ক : ছেলেধরা সন্দেহে কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরে দুই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে নির্যাতন করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তাদের উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের বৈরাগীর বাজারে সোমবার দুপুরে এক নারীকে যেখানে সেখানে ঘুরতে দেখে বাজারের লোকজন। স্থানীয়রা তার নাম পরিচয় জানতে চাইলে সে কোন জবাব না দেওয়ায় এ সময় গলাকাটা (ছেলেধরা) সন্দেহে তাকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে একটি গাছের সাথে বেঁধে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

পরে ওই নারীর কথা-বার্তা অসঙ্গতিপূণ ও এলোমেলো হওয়ায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ওই নারী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তাই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে ওই নারীর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘ছেলেধরা সন্দেহে এক নারী আটক হয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করেছে। ওই নারী মূলত মানসিক ভারসাম্যহীন। তাই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আগামীতে যাতে কেউ ছেলেধরা সন্দেহে নির্যাতন করতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।’

এদিকে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জামাই বাড়ি বেড়াতে আসা হাসিনা খাতুন (৬০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়েছে এলাকাবাসী। সোমবার সকালে উপজেলার থানা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। ওই নারীর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।

দৌলতপুর থানা পাড়ায় বাড়ি ওই নারীর জামাই রনি জানান, গত রমজানের ঈদের আগে আমার শ্বাশুড়ি বেড়াতে আসে। তার মাথায় সমস্যা আছে। রাস্তা-ঘাট ঠিকমত চিনতে পারে না। আজ সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাইরে এসে পথ ভুলে যায়। এরপর স্থানীয়রা ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে মারপিট করেছে।

দৌলতপুর থানার ওসি আজম খান বলেন, জামাই বাড়ি বেড়াতে আসা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে পিটিয়ে আহত করে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে জামাইয়ের বাড়ি পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে চিহিৃত করা হয়েছে। মামলার পর ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

Leave a comment

উপরে