যমুনার তান্ডবে নিশ্চিন্থ হবার পথে ৩ গ্রাম

যমুনার তান্ডবে নিশ্চিন্থ হবার পথে ৩ গ্রাম

প্রকাশিত: ১২-০৭-২০১৯, সময়: ১৭:১৬ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নদী ভাঙ্গনে পুরো উপজেলা পরিষদ বিলীনের পর বিপর্যস্ত হয়ে পড়া হাতে গোনা আর ১০/১২টি গ্রাম থাকলেও ভাঙ্গন রোধে কার্যকরি পদক্ষেপ না থাকায় তাও এখন বিলীন হবার পথে। গত দু সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ শতাধীক ঘর-বাড়ি, আবাদী জমি বিলীনে বোয়ালকান্দি, মহেশপুর ও বারবালা গ্রাম এখন অনেকটাই নিশ্চিন্থ। এখানে থাকা ৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা সহ ৫ শতাধীক ঘরবাড়ি রয়েছে হুমকিতে। তাই বিপর্যস্ত মানুষ গুলোর ক্ষোভ, হতাশা ও দুর্ভোগের শেষ নেই। এ অবস্থায় তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম সরেজমিনে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।

চৌহালী উপজেলা তথা সিরাজগঞ্জ জেলার সর্ব উত্তরের টাঙ্গাইল জেলা সদরের সাথে লাগানো জনবহুল বোয়ালকান্দি, মহেশপুর ও বারবালা গ্রাম গুলোতে এখন বিরাজ করছে সুন-সান নিরবতা। যমুনায় পানি বৃদ্ধির সাথে-সাথে নদীতে তীব্র স্রোতে ঘুর্নাবর্তের সৃষ্টি হয়ে তীরবর্তী এলাকায় বেড়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। মুহুর্তের মধ্যেই বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসা সহ বিস্তৃন্ন এলাকার ফসলের মাঠ। সর্বশান্ত হওয়া এ মানুষ গুলো যমুনার ভাঙ্গনের কাছে অসহায় হয়ে এখন খুঁজে ফিরছে নতুন আশ্রয়। সসেজমিনে শুক্রবার সকালে বোয়ালকান্দি গিয়ে দেখা যায় গ্রামের আজমত আলী মেম্বর, বৃদ্ধ খলিলুর রহমান, আব্দুল বারেক, হাই মোল্লার স্ত্রী লাইলী খাতুন, মৃত আমজাদ আলীর স্ত্রী বৃদ্ধ হাজেরা খাতুন ও মতি প্রামানিকের স্ত্রী হাজরা বেওয়া ভাঙ্গন কবলিত ঘর-বাড়ি, গাছপালা ও আসবাবপত্র সরাতে ব্যস্ত।

তারা জানান, বর্তমানে যে ভাবে সব বিলীন হচ্ছে এমন ভাঙ্গন আমরা কখনো দেখিনি। সবই ছিল যমুনা কেড়ে নিয়েছে। এখন কোথায় যাব তার ঠিক-ঠিকানা নেই। জায়গা কেনারও টাকা পয়সা নেই যে দুরে চলে যাব। আশ পাশে বাড়ি করবো সেখানেও একই অবস্থা। আমাদের দেখার কেউ নেই।

এদিকে আর মাস খানেক পরেই এই এলাকার জমিতে থাকা আউশ ধান, পাট, তিল, ধইঞ্চা কৃষকের গোলায় উঠতো। কিন্তু নদী ভাঙ্গন সব সাবার করে দিচ্ছে। উপায় না বুঝে কৃষকেরা কাছা ধানই গরুকে খাওয়াতে কেটে নিচ্ছে। তাই হতাশায় কৃষকেরাও। এ ব্যাপারে কৃষক আনিসুর রহমান জানান, এবার ধানের ফলন বেশ ভাল হয়েছিল। ভাবছিলাম সাড়া বছরের ধান এবার ঘরে তুলবো। তা আর ভাগ্যে নেই ধান ও ঘর দুটই যমুনা শেষ করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় চলার মত আমাদের কোন কৃষকের আর উপায় নেই।

বর্তমানে ভাঙ্গন তীব্রতর হবার কারনে রেহাই মৌশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাত্র ৫০ গজ দুরে অবস্থান করছে। পাশেই রয়েছে বোয়ালকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোনাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বোয়ালকান্দি দাখিল মাদ্রাসা সহ আরো ৫ শতাধীক ঘর-বাড়ি। যা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ দাবী করলেন স্থানীয় সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ, ইউপি সদস্য জেলহাজ আলী, মেঃ লাল মিয়া জানান, স্থায়ী প্রতিরোধ কাজ আপাতত না করা গেলেও চৌহালীর মানচিত্র থেকে ৩টি গ্রাম না হারাতে দ্রুত জিও টেক্স ব্যাগে বালু ফেলে রক্ষা কাজ করা দ্রুত প্রয়োজন। তা না হলে এবার বন্যায় বাকি এলাকা টুকু আর টেকানো যাবেনা। তারা আরো জানান, বর্তমানে সব হারানো মানুষের চলার মত কোন অবস্থা নেই। থাকারও জায়গা নেই। তাই তাদের জন্য সরকারী সহায়তাও প্রয়োজন।

শুক্রবার দুপুরে ভয়াবহ এই ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, আপাতত ভাঙ্গন ঠেকাতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার মাধ্যমে প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। এছাড়া আগামীতে টাঙ্গাইল ও চৌহালীকে স্থায়ী ভাবে রক্ষায় ১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকায় কাজ বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষের নদী নিয়ে আর আতংকে থাককে হবেনা।

Leave a comment

আরও খবর

  • রিফাত হত্যা : গোপন ফোন নম্বরে খুনের পরিকল্পনা
  • বাড়ি কিনলে আস্ত দ্বীপ ফ্রি
  • ৮৬ কোটি টাকা পাচ্ছে পাকিস্তান
  • প্রিয়া সাহার অভিযোগ কতটা আমলে নিতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
  • ১১ ঘণ্টা পরও তুরাগে পড়া ট্যাক্সিক্যাবটির হদিস মেলেনি
  • পদ্মায় দুই শিশুর লাশ
  • রাজশাহীতে যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ২
  • ছেলেধরা গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান রাজশাহী পুলিশের
  • খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন রাজশাহী থেকেই : মিনু
  • বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন রওশন এরশাদ
  • নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে মাকে হারালো অবুঝ এই শিশু!
  • প্রাথমিক শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যা
  • রাজশাহীতে ছেলেধরা সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি
  • শেয়ারবাজার থেকে একদিনেই ৫ হাজার কোটি টাকা হাওয়া
  • নাটোরে ছেলেধরা সন্দেহে ২ প্রতিবন্ধি যুবককে পিটুনি



  • উপরে